মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত হলেও ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। বিশেষ করে ভারতের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার কনডম শিল্প ও ওষুধ উৎপাদন খাত এখন গভীর সংকটে। লজিস্টিক সমস্যা এবং কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণ ব্যবহার্য এই পণ্যের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কনডম উৎপাদনের প্রধান দুটি উপাদান হলো ল্যাটেক্স এবং সিলিকন অয়েল। ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল করতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ইতিমধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েল এবং প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও পিভিসি ফয়েলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কিউপিড লিমিটেড’-এর মতে, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের ওপর হুট করে দামের বোঝা চাপানো যাচ্ছে না, যা শিল্পটিকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং লোহিত সাগরে অস্থিরতার কারণে ভারতীয় রফতানি পণ্যগুলো এখন ‘কেপ অফ গুড হোপ’ হয়ে ঘুরপথে যাচ্ছে। এতে জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ১৫-২০ দিন সময় লাগছে এবং কন্টেইনার ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এইচএলএল (HLL) লাইফ কেয়ারের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো, যারা বছরে প্রায় ২০০ কোটি কনডম তৈরি করে, তারা বিদেশের অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ভারতের পরিবার পরিকল্পনা ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি নিয়ে। ‘পপুলেশন ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার’ নির্বাহী পরিচালক পুনম মুতরেজা সতর্ক করে বলেছেন, কনডমের দাম বাড়লে বা সরবরাহ কমলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ব্যবহার কমে যাবে। এতে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ এবং কিশোরী অবস্থায় মা হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা ভারতের গত কয়েক দশকের জনস্বাস্থ্য খাতের সাফল্যকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। বর্তমানে ভারতের মাত্র ৯ শতাংশ বিবাহিত দম্পতি কনডম ব্যবহার করেন; এই সংখ্যাটি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেবল কনডম নয়, পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর অনেক ওষুধের (সিন্থেটিক ড্রাগ ও সলভেন্ট) কাঁচামাল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (IDMA) মতে, ভারতে ওষুধের তাৎক্ষণিক কোনো ঘাটতি না থাকলেও বিশ্ববাজারে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় রফতানি বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘প্যানিক’ বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে কাল হয়তো ওষুধের দাম আরও বাড়বে।
অ্যামোনিয়ার দাম বৃদ্ধি
৪০% – ৫০%
বার্ষিক উৎপাদন (HLL)
২০০ কোটি পিস
রফতানি বিলম্ব (সমুদ্রপথে)
১৫ – ২০ দিন অতিরিক্ত
ভারতের বাজার মূল্য
৮,০০০+ কোটি টাকা