জাতীয় সংসদে সংসদীয় রাজনীতির নতুন এক বার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৭ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সংসদীয় সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং পারস্পরিক সম্মানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার যে চিরাচরিত রাজনৈতিক ধারা প্রচলিত রয়েছে, তিনি ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে তা সমর্থন করেন না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি অলিখিত প্রথা তৈরি হয়েছে যে, সরকারি দল সব কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চায় আর বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার পথ বেছে নেয়। এই কালচার বা সংস্কৃতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। সরকারি দলকে যেমন বিরোধী দলকে সম্মান দেখাতে হবে, তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে দেশের স্বার্থে ও দেশ গঠনে নিজস্ব অবস্থান থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা।”
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসি বা পররাষ্ট্রনীতিতে অন্য কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ আমরা কখনোই মেনে নেবো না। যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।”
সংসদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি একটি বড় দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব ধরনের মৌলিক চুক্তি সংসদে আলোচনার জন্য নিয়ে আসতে হবে। সংসদকে বাইপাস বা পাশ কাটিয়ে কোনো গোপন চুক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। সবকিছুরই ফয়সালা হওয়া উচিত সংসদের ভেতরে, যাতে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রেক্ষিতে তিনি দেশের প্রাপ্তিগুলোকে সামনে রেখে গঠনমূলক আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর এই বক্তব্য সংসদীয় রাজনীতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দূরত্বের জায়গায় একটি নতুন আলোচনার সূত্রপাত করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তিনি মনে করেন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে দেশ ও জনগণের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করাই হোক সংসদের প্রধান লক্ষ্য।