সরকার ও রাজনৈতিক দলকে সাংগঠনিকভাবে আলাদা রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলটির ‘প্রধান সমন্বয়কারী’র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার পরিবর্তে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি তার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “সরকার এবং রাজনৈতিক দলকে সাংগঠনিকভাবে পৃথক রাখা সুস্থ রাজনীতির জন্য জরুরি। সেই নীতিগত অবস্থান থেকেই আমি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছি।” তিনি বিশ্বাস করেন, এই পদক্ষেপ সরকারি কাজে অধিকতর স্বচ্ছতা এবং দলের ভেতর গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।
জোনায়েদ সাকি গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যপট বদলে যায়।
নির্বাচনী সাফল্য: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সরকারে ভূমিকা: নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাকি। তিনি জানান, এই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে, তবে এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই চূড়ান্তভাবে প্রাধান্য পাবে।
গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জোনায়েদ সাকির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দলীয় পদের মোহ ত্যাগ করে সরকারের কাজে মনোনিবেশ করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।