• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন

সিরিয়াল ঠেকল ২০২৮ সালে: রেডিওথেরাপির অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার রোগী

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

মরণব্যাধি ক্যান্সারের নাম শুনলেই মানুষের মনে যে মৃত্যুভয় আর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়, তার চেয়েও বহুগুণ বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে এই রোগের চিকিৎসা পাওয়ার বাস্তব সংগ্রাম। দেশের সাধারণ, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিআরএইচ) আজ নিজেই যেন এক গভীর সংকটে ধুঁকছে। ক্যান্সারের মতো একটি স্পর্শকাতর রোগের চিকিৎসায় যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান, সেখানে এই হাসপাতালে একটি রেডিওথেরাপি নেয়ার জন্য রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে বছরের পর বছর। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকা বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি অনেক হতভাগ্য রোগী সিরিয়াল পেয়েছেন ২০২৮ সালের একেবারে শেষভাগে। একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার জন্য তিন থেকে চার বছর অপেক্ষা করার অর্থ হলো রোগীকে প্রকারান্তরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ এতই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, গত এক মাস ধরে বাধ্য হয়ে নতুন রোগীদের রেডিওথেরাপির রেজিস্ট্রেশন বা তালিকাভুক্তির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই অবর্ণনীয় ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার মাঝে দাঁড়িয়ে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এক চরম অসহায়ত্বের চিত্রই যেন ফুটে উঠছে মহাখালীর এই বিশেষায়িত হাসপাতালটির আঙিনায়।

এই মহাবিপর্যয়ের সবচেয়ে করুণ শিকার হচ্ছেন দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে আসা অসহায় রোগীরা। নেত্রকোনা জেলা থেকে আসা আসমা বেগমের গল্পটি এই নির্মম বাস্তবতারই একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি মাত্র। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আসমা বেগমের শরীরে স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সার শনাক্ত হয়। রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে তার সার্জারি বা অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। এরপর নিজ জেলা সদরে তিনি কেমোথেরাপির কোর্সও শেষ করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, এখন তার রেডিওথেরাপি নেয়া অত্যন্ত জরুরি। বেসরকারি পর্যায়ে এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায়, খরচের কথা চিন্তা করে তিনি অনেক আশা নিয়ে ছুটে এসেছিলেন রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে। কিন্তু এখানে এসে তাকে মুখোমুখি হতে হয় এক নিদারুণ হতাশার। গত তিনদিন ধরে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তিনি রেডিওথেরাপির সিরিয়ালের জন্য নিজের নামটি পর্যন্ত তালিকাভুক্ত করতে পারেননি। পরে তিনি জানতে পারেন যে, নতুন রোগীদের রেডিওথেরাপির সিরিয়াল দেয়া আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রটোকল অনুযায়ী, একজন ক্যান্সার রোগীর সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে রেডিওথেরাপি শুরু করতে হয়। এর চেয়ে বেশি দেরি হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে থেরাপির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমতে থাকে এবং রোগীর শরীরে ক্যান্সার কোষ পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত রোগীর জীবনের ঝুঁকি চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের এই অচলাবস্থার মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চরম অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার এক হতাশাজনক চিত্র। দেশের সবচেয়ে বড় এই বিশেষায়িত হাসপাতালটিতে মোট ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিন পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই ছয়টি মেশিনের মধ্যে চারটি মেশিনই গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে আছে। মাত্র দুটি সচল মেশিন দিয়ে কোনোমতে হাজার হাজার রোগীর থেরাপি দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই দুটি মেশিন তাদের প্রকৃত সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগীকে প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দুটি মেশিনের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে শুরু করে মধ্যরাত বারোটা পর্যন্ত টানা তিন শিফটে গড়ে আড়াইশ রোগীকে রেডিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে এই সচল মেশিন দুটিও যেকোনো সময় বিকল হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যে রোগীরা অনেক মাস বা বছর পরের সিরিয়াল পেয়েছেন, তারা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন পার করছেন। কারণ তারা নিজেরাও জানেন না যে, নির্দিষ্ট সময়ে সিরিয়াল আসার আগে তাদের ক্যান্সারের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নেবে বা আদৌ তারা বেঁচে থাকবেন কি না।

রোগীদের এই অবর্ণনীয় দুর্দশা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও পুরোপুরি অবগত। এনআইসিআরএইচের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমনও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এত দেরিতে সিরিয়াল পাওয়া রোগীরা নির্দিষ্ট সময়ে থেরাপি নিয়ে চিকিৎসাগতভাবে খুব একটা উপকৃত হতে পারবেন না। রেডিওথেরাপির সিরিয়াল বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কিন্তু নির্মম একটি সত্য তুলে ধরেছেন। তার মতে, এখন সিরিয়াল দিয়ে রোগীদের আসলে তেমন কোনো লাভ নেই। কারণ নতুন করে কাউকে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল দিলে সেই রোগীকে অন্তত দুই বছর পর থেরাপি নিতে আসতে হবে। এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ক্যান্সার রোগী যদি থেরাপির জন্য অপেক্ষা করেন, তবে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা চরম অবনতির দিকে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সাড়ে সাত হাজারের বেশি রোগী অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকায় বাধ্য হয়েই গত এক মাস ধরে নতুন রোগীর সিরিয়াল নেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। হাসপাতালে ছয়টি মেশিন পরিচালনার অবকাঠামো থাকার পরও কেন নতুন মেশিন কেনা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, একটি আধুনিক রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা এবং তা সঠিকভাবে স্থাপন করতে ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজনীয় অর্থের কোনো বরাদ্দ না থাকায় চাইলেই দ্রুত মেশিন কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি আশার কথা জানিয়েছেন যে, এরই মধ্যে একটি নতুন মেশিন কেনা হয়েছে যা আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে দেশে এসে পৌঁছাবে এবং আরো একটি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন কেনার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারে আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি রোগীর চিকিৎসার কোনো না কোনো পর্যায়ে রেডিওথেরাপির একান্ত প্রয়োজন হয়। সংস্থাটি রেডিওথেরাপির সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে আসছে। এনআইসিআরএইচের চিকিৎসকদের মতে, একজন রোগীর রেডিওথেরাপির একটি সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। এই দীর্ঘ থেরাপি কার্যক্রম চলার মধ্যেই এতদিন নতুন থেরাপি নিতে আসা রোগীদের সিরিয়াল নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে এত বেশি বেড়ে গেছে যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে এই বিপুল চাপ সামলানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ক্যান্সারের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের সবচেয়ে বড় এবং অনেক ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসার জায়গা হলো এই জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল। বেসরকারি হাসপাতালে একটি রেডিওথেরাপি কোর্সের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, তা দেশের সিংহভাগ মানুষের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়। তাই সারা দেশ থেকেই হাজার হাজার ক্যান্সার রোগী একটু বাঁচার আশায় এই হাসপাতালটিতে ছুটে আসেন। কিন্তু রোগীর তুলনায় হাসপাতালের রেডিওথেরাপি মেশিন এমনিতেই অত্যন্ত অপর্যাপ্ত, তার ওপর চারটি মেশিন বছরের পর বছর ধরে অকেজো পড়ে থাকাটা দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম ব্যর্থতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনস্থ আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার প্রকল্প ‘গ্লোবক্যান ২০২৪’-এর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে বাংলাদেশের ক্যান্সার পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন আনুমানিক ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৮২০ এবং নারী রোগীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ৪৪৩ জন। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর একটি অংশ সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল বা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেন। কিন্তু আক্রান্তদের সবচেয়ে বড় অংশটি চিকিৎসার জন্য মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওপরই নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র রাজধানীতে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল দিয়ে সারা দেশের এত বিপুল সংখ্যক ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আরও বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও মফস্বল শহরেও দ্রুত গড়ে তুলতে হবে। রাজধানীকেন্দ্রিক এই চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে না পারলে এই সংকট কখনোই দূর হবে না। তবে আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শুধু কোটি টাকা দামের যন্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়, রেডিওথেরাপির অবকাঠামোর সঙ্গে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল যেমন রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিকেল ফিজিসিস্ট এবং রেডিয়েশন থেরাপিস্টও পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি করতে হবে।

সরকারি চিকিৎসাসেবায় ক্যান্সার রোগীদের এই অবর্ণনীয় সংকট ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাক হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, ক্যান্সার রোগীদের এ ধরনের ভোগান্তি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং অমানবিক। দেশে এখন বিপুলসংখ্যক ক্যান্সার রোগী রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। এই মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে সরকারকে এখনই বিকল্প কোনো জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। তিনি একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন যে, প্রয়োজন হলে দেশের যে সকল বেসরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির আধুনিক সুবিধা রয়েছে, তাদের সঙ্গে সরকারিভাবে যৌথ উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর্তুকি দিতে পারে, যাতে সাধারণ রোগীরা সরকারি খরচে সেখানে চিকিৎসা নিতে পারেন। এতে করে সরকারি ক্যান্সার হাসপাতালগুলোর ওপর থেকে রোগীর অস্বাভাবিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে এবং রোগীরা সময়মতো জীবন রক্ষাকারী থেরাপি পাবেন। যতই ব্যয়বহুল হোক না কেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের, বিশেষ করে ক্যান্সার আক্রান্তদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

দেশের সার্বিক ক্যান্সার চিকিৎসা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সামগ্রিক অবস্থা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এবং সারা দেশের অন্যান্য হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীর বাড়তি চাপের কারণেই মূলত সেখানে এত দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। তবে সরকার এই সংকট নিরসনে বসে নেই। রোগীদের এই ভোগান্তি কমাতে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে সরকার এরই মধ্যে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের আটটি বিভাগীয় পর্যায়ে আটটি নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেয়া হয়েছে। এই হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং কিডনি রোগের মতো জটিল ব্যাধির বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে এই হাসপাতালগুলোর বিশাল অবকাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আশা, অচিরেই এই বিভাগীয় বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে। আর এগুলো চালু হলে মহাখালীর ক্যান্সার হাসপাতালসহ রাজধানীর অন্যান্য বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর যে অমানবিক চাপ রয়েছে, তা ক্রমান্বয়ে অনেক কমে আসবে এবং দেশের মানুষ নিজ নিজ বিভাগেই উন্নত চিকিৎসাসেবা লাভ করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category