দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ দিনে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণশীলতা এবং ইনকিউবেশন পিরিয়ডের কারণে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও অন্তত এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৫০০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ২ হাজার ২৪১ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংক্রমণের তীব্রতা: গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মৃত্যু: এ পর্যন্ত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ জানিয়েছেন, সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত হামের প্রকোপ বেশি থাকে। তিনি বলেন, “ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যের কারণে নতুন রোগী ধাপে ধাপে সামনে আসে। এছাড়া টিকাদান শুরু হলেও শিশুর শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। ফলে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ঝুঁকি থেকে যাবে।”
হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।
জরুরি পদক্ষেপ: প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় টিকা দেওয়া হচ্ছে।
সময়সূচি পরিবর্তন: সারা দেশে ৩ মে থেকে টিকাদান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তা ২০ এপ্রিলে এগিয়ে আনা হয়েছে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি এলাকার অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুদের জ্বর ও গায়ে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং অন্যান্য সুস্থ শিশুদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে বলা হয়েছে।