• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

হাসপাতালে হাম ও ডেঙ্গুর দ্বিমুখী চাপ: জনস্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা

Reporter Name / ০ Time View
Update : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই নতুন করে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ শুরু হওয়ায় জনস্বাস্থ্য খাতে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার শিশু হাম বা হামের উপসর্গের চিকিৎসা নিতে আসছে। এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি। একই সময়ে দুটি সংক্রামক রোগের সংক্রমণের এই দ্বিমুখী চাপ হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হামের ভয়াবহতা ও মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৬০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছে। এর মধ্যে হামে ৯৩ জন এবং হামের উপসর্গে ৬১৫ জনসহ মোট ৭০৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে নতুন করে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড বা কেবিন চালু বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সংক্রামক এই রোগ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও ঝুঁকির পূর্বাভাস

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় তীব্র হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেছেন, এবারের পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় এই সূচক ৯৩ পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যেখানে ২০-এর বেশি হওয়া মানেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ডেঙ্গু এখন আর শুধু ঢাকার সমস্যা নয়; চট্টগ্রাম, বরিশাল, পিরোজপুর, চাঁদপুর, নরোজদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে লার্ভার উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন হাম নিয়ন্ত্রণে মাইক্রোপ্ল্যান অনুযায়ী টিকা কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঢাকায় বসে পরিকল্পনা করলে হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করতে হবে।” একই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় রোগীদের মশারির ভেতরে রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে আক্রান্ত রোগীকে মশা কামড়ালে সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে।

চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণের এই দ্বিমুখী চাপ সামলাতে এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লার্ভা অনুসন্ধান, প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং পর্যাপ্ত কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা সমন্বিত না করলে এবং কার্যকর রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category