• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তরের ভাবনা

Reporter Name / ১ Time View
Update : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় মার্কিন কমান্ড হেডকোয়ার্টার্সসহ অন্তত ১২টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের ঘাঁটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সেনাসদস্যদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল অঞ্চল থেকে ঘাঁটি সরিয়ে ইসরায়েলের সুরক্ষিত ভূখণ্ডে স্থানান্তর করলে তা কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। যদিও পেন্টাগন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

এদিকে, ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তবে এই সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটারই মনে করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের সামরিক অভিযান চালানো মোটেই উচিত হয়নি। যুদ্ধের এই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও জনগণের ক্ষোভ এখন মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ক্রমাগত হামলার মুখে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘাঁটি সরিয়ে ইসরায়েলে নেওয়ার এই চিন্তা বাস্তবায়ন করা হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিই নয়, বরং ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যকার নতুন নিরাপত্তা সমীকরণকেও জটিল করে তুলবে। ওয়াশিংটন এখন এই কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজস্ব বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মরিয়া, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও প্রভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন কোনো সংকট তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category