• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন
Headline
সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত এনআইসিইউ ওভারহিট হয়ে নবজাতক দগ্ধ প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মী পাঠাচ্ছে বোয়েসেল রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষক পাবেন প্রণোদনা, বরাদ্দ প্রায় ৯৬ কোটি টাকা যে কারণে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, জানাল দূতাবাস নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে হবে: শামা ওবায়েদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে ৩২২ কোটি টাকা গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়বে, মোবাইল বিলও দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

৭ নভেম্বরের চেতনায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় বাংলাদেশ: ভূমিমন্ত্রী

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সমমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে চায় না।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেই জাতি, যারা ব্রিটিশদের কাছে মাথা নত করিনি, মোঘলদের কাছেও করিনি। আমরা সব সময় মাথা উঁচু করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে বাঁচতে চাই। ’

এর আগে সকালে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

৭ নভেম্বরের স্মৃতিচারণা করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দিনটি তার মতো অনেকের কাছেই বিশেষ আবেগ ও স্মৃতির। প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি যখন রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সম্পাদক ছিলেন, তখন কলেজে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর তৎপরতা দেখা দিয়েছিল। সে সময় দেশপ্রেমিক ছাত্রদের নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিছিল ও পাল্টা মিছিল করেছিলেন। কলেজের রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল।

নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের বালুরঘাটে রিক্রুট ক্যাম্পে থাকার সুযোগ হয়েছিল তার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে ফিরে আসেন। রাজশাহীতেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এই মাটির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরাধীনতার শৃঙ্খল ও বিদেশি আধিপত্যের আশঙ্কা ছিল। সময়ের সঙ্গে মানুষ উপলব্ধি করেছে, প্রকৃত স্বাধীনতা মানে নিজের মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। বাংলাদেশের মানুষকে আত্মমর্যাদার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। দেশের ইতিহাসের নানা কঠিন পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় নেতৃত্বের জায়গায় এসেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ও জাতীয় পরিচয় বিশ্বদরবারে তুলে ধরার নতুন প্রত্যয় তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের সাহসিকতা এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে দেশের মানুষ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ১৯৮৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা এগিয়েছে। সেদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া অনেকের স্মৃতিও আজ তার মনে পড়ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং তাদের রেখে যাওয়া রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে তার বক্তব্য এবং প্রতিকূলতা ও নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দেশকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। তার নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া কাজগুলো সম্পন্ন হবে এবং বাংলাদেশ উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান ভূমিমন্ত্রী। পরে তিনি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, শহীদ জিয়া জিন্দাবাদ ও খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category