বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ঘিরে শুরু হয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তীব্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন দেশই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্যে নিজেদের প্রভাব সুসংহত করতে মরিয়া। তিস্তা প্রকল্পের বিশাল ঋণ প্রস্তাব থেকে শুরু করে স্থলবন্দরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ—সব মিলিয়ে এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চীনের ঋণের প্রবাহ ভারতের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল ছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিন দেশই নতুন করে তাদের কার্ড চালছে।
বিগত ৫ অর্থবছরের চিত্র (ইআরডির তথ্যমতে):
চীন: নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ১৪০ কোটি ডলার। বর্তমানে ২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও ঋণের আশ্বাস দিচ্ছে।
ভারত: গত ৫ বছরে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি, তবে ১২৩ কোটি ডলারের অর্থছাড় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র: সরাসরি ‘ঋণ সহায়তা’ না দিলেও বিনিয়োগ এবং অশুল্ক বাধা দূর করার মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী।
| উন্নয়ন সহযোগী দেশ | প্রধান ফোকাস ও প্রস্তাব | বর্তমান অবস্থা ও তৎপরতা |
|---|---|---|
| 🇨🇳 চীন | তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ১০০০ শয্যার হাসপাতাল | তিস্তা প্রকল্পে বড় অঙ্কের ঋণের প্রস্তাব ও নতুন সরকার আসার পর তৎপরতা বৃদ্ধি। |
| 🇮🇳 ভারত | বাণিজ্য বাধা অপসারণ ও স্থলবন্দর উন্নয়ন | স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত। |
| 🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র | বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জ্বালানি সহায়তা (LNG) | মার্কিন বিনিয়োগের পথে থাকা অশুল্ক বাধা দূর করার তাগিদ। |
তথ্যসূত্র: ERD ও সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদন।
৩. বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও পরামর্শ
এই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (BIISS) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর মনে করেন:
চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করে নতুন ও লাভজনক প্রকল্প খুঁজে বের করতে হবে।
কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ‘জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক’কে ভিত্তি করে কূটনীতি সাজাতে হবে।
তিন দেশের প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় স্বার্থে দর কষাকষি করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো প্রমাণ করে যে, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।