• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
Headline
শিগগিরই আসছে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জেট ফুয়েলের দাম বাড়লো লিটারে ১৭ টাকা কৃত্রিম সংকট নিরসনে নতুন সার ডিলার নীতিমালা প্রণয়ন: অ্যাটর্নি জেনারেল গুলশান বারিধারার লেকই যদি ঠিক করতে না পারি সারা দেশ কিভাবে করব: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী অর্থপাচার করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, সুইস নাগরিকের তথ্য চাইল ইউএই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে শিশুদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন মতপার্থক্য ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি পোস্টাল ভোটিংয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে নেপাল খাতা মূল্যায়নে চরম খামখেয়ালি: শাস্তির খড়্গ আট হাজার শিক্ষকের ওপর

শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি: শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকার রাজপথ নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৌশলগতভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর অংশ হিসেবেই সদ্য বিলুপ্ত হওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে এখন চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট বিশাল আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাপা উত্তেজনা ও রাজনৈতিক কৌতূহল বিরাজ করছে। নতুন কমিটিতে কি সদ্য বিদায়ী কমিটির প্রভাবশালী নেতারাই স্বমহিমায় ফিরে আসবেন, নাকি বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা অপেক্ষাকৃত তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নতুন কোনো চমক সামনে আসবে, তা নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম পর্যন্ত চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিএনপির হাইকমান্ড এখন একটি কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কারণ আগামী দিনের রাজনৈতিক ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঢাকা মহানগর উত্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ ইউনিটে যোগ্য, পরীক্ষিত ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।

দলীয় হাইকমান্ড এবং নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এবারের নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে কার কতটা বলিষ্ঠ ও আপসহীন ভূমিকা ছিল, ভয়াবহ পুলিশি জুলুম ও হামলা-মামলা উপেক্ষা করে কারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ রাখতে পেরেছিলেন, তা অত্যন্ত গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সাধারণ মানুষের কাছে নেতাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সর্বোপরি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির বিষয়টি এবার নেতৃত্ব বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিগত দিনে দলের নাম ভাঙিয়ে যারা বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন, তাদের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শীর্ষ পদ অর্থাৎ সভাপতি বা আহ্বায়ক হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এই দীর্ঘ তালিকার একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সফল আহ্বায়ক এবং রাজপথের পরীক্ষিত ছাত্রনেতা সাইফুল আলম নীরব। তাঁর পাশাপাশি এই শীর্ষ পদের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির হেভিওয়েট যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সক্রিয় সদস্য মামুন হাসান। এছাড়া মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার এবং বিদায়ী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নামও শীর্ষ পদের দাবিদার হিসেবে দলের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। নতুন কমিটিতে নিজের নাম জোরেশোরে আলোচনায় থাকার বিষয়ে সাইফুল আলম নীরব গণমাধ্যমের কাছে অত্যন্ত কৌশলী অথচ দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবশ্যই কিছু নিজস্ব প্রত্যাশা রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকেই তিনি চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেবেন।

শীর্ষ পদের এই তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেই সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হককে ঘিরে দলের ভেতরে এক নতুন ও নাটকীয় সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর আমিনুল হক মহানগর রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে ছিটকে পড়বেন বলে অনেকে ধারণা করলেও, বাস্তবে তার পক্ষে তৃণমূলের একটি বড় ও সুসংগঠিত অংশ সরাসরি মাঠে নেমে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর কেন্দ্রস্থল গুলশান এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আমিনুল হককে পুনরায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি করার জোরালো দাবিতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন। গুলশান-১ নম্বরের নাভানা টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হওয়া ওই উত্তাল মিছিলটি আজাদ মসজিদের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আমিনুল হককে নতুন কমিটির নেতৃত্বে সসম্মানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। বিদায়ী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও প্রকাশ্যে এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে আমিনুল হককে সভাপতি করার পক্ষে নিজের জোরালো মত তুলে ধরেছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন যে, কমিটিতে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের দায়িত্ব দিতে হবে এবং বিগত দিনের চরম দুর্দিনে যেসব নেতাকর্মী থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন, তাদের আতশ কাচ দিয়ে খুঁজে এনে মহানগর কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।

আমিনুল হকের পক্ষে এই প্রকাশ্য জনসমর্থন নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে হাইকমান্ডের জন্য আরও কিছুটা জটিল করে তুলেছে। এখন ঢাকার রাজনৈতিক মহলে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে, বিলুপ্ত কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেই কি আমিনুল হককে আবার দলের ফ্রন্টলাইনে আনা হবে, নাকি সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কোনো রাজনৈতিক মুখকে বেছে নেওয়া হবে। বিদায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারও নতুন কমিটিতে বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তার মতে, পূর্ববর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামগুলোতে আমিনুল হকের একটি দৃশ্যমান ও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল এবং মহানগর উত্তরের বিশাল নেতাকর্মী বাহিনীকে যেকোনো মূল্যে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাব রেখেছেন, তা হলো ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক ত্যাগী নেতাদেরও এই নতুন মূল কমিটিতে সম্মানজনক জায়গা দিতে হবে। ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরও নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক যোগ্যতা এবং অতীতের রাজপথের ভূমিকার ওপর ভিত্তি করেই নীতিনির্ধারকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শীর্ষ পদের পাশাপাশি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্থাৎ সাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদটি নিয়েও দলের ভেতরে চলছে ব্যাপক স্নায়ুযুদ্ধ ও লবিং। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদটির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের নাম। বিগত কমিটিতে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অনেকের নজর কেড়েছিল। তবে তাকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন বিদায়ী কমিটির আরেক তুখোড় নেতা ও যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন। এর পাশাপাশি দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিকী সাজুর নামও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ফিরছে। শুধু তারাই নন, সাধারণ সম্পাদক পদের এই তীব্র দৌড়ে সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নামও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন কমিটি কবে নাগাদ ঘোষণা করা হতে পারে, সে বিষয়ে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে যখন অধীর অপেক্ষা, তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, নতুন কমিটির বিষয়ে তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য এখনো আসেনি, তবে সংগঠনের গতিশীলতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির স্বার্থেই এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে এবং এটি একটি চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক আকস্মিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মো. আমিনুল হক ও মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সংঘটিত হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাত্র ছয় দিন পরই এই কমিটি বিলুপ্তির ঘটনাটি মোটেও কাকতালীয় নয়। ওই ঘটনার দায়ভার এড়াতেই হাইকমান্ড এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে কানাঘুষা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই সদ্য বিলুপ্ত কমিটির ইতিহাসও বেশ ঘটনাবহুল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে ৪ নভেম্বর মাত্র ছয় সদস্যের একটি সংক্ষিপ্ত কাঠামো নিয়ে প্রথম এই আহ্বায়ক কমিটিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তৃণমূলের দাবি ও সাংগঠনিক বিস্তৃতির লক্ষ্যে একই বছরের ২৬ নভেম্বর এটিকে সম্প্রসারিত করে ৫১ সদস্যের একটি বিশাল কমিটিতে রূপান্তর করা হয়। সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শীর্ষ দুই পদের পাশাপাশি ১৩ জন প্রভাবশালী যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৩৬ জন সাধারণ সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ২২ মাস ধরে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে অতি শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নেতৃত্বের কোনো নাম বা রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি।

সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটি এখন একাধিক রাজনৈতিক সমীকরণ ও মেরুকরণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দলের ভেতরের একটি শক্তিশালী অংশ মনে করে, আসন্ন কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সদ্য বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ, পরিচিত এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই মূল নেতৃত্ব বেছে নেওয়া উচিত। অন্যদিকে দলের সংস্কারপন্থি ও তরুণ অংশটি চাইছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই, যাদের ভাবমূর্তি একেবারে পরিচ্ছন্ন এবং যাদের সঙ্গে তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীদের আত্মার সম্পর্ক রয়েছে, তাদের হাতেই মহানগর উত্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের চাবিকাঠি তুলে দেওয়া হোক। এখন দেখার বিষয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলীয় হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কোন কৌশলটি বেছে নেয়—পুরনো অভিজ্ঞদের ফিরিয়ে আনা, সম্পূর্ণ নতুন চমক সৃষ্টি করা, নাকি পুরনো ও নতুনের এক চমৎকার সংমিশ্রণে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল সমন্বিত কমিটি উপহার দেওয়া। এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরেই নির্ভর করছে আগামী দিনে ঢাকা মহানগর উত্তরের রাজপথে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি, গ্রহণযোগ্যতা ও টিকে থাকার সক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category