মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এখন এক চরম বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরান যখন পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই ফাঁস হয়েছে ওয়াশিংটনের এক গোপন পরিকল্পনার খবর。সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরানের গোপন আস্তানায় মজুত রাখা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন。
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের একটি অত্যন্ত গোপন স্থানে রাখা ইউরেনিয়াম মজুতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল。 এই মজুত নিয়ন্ত্রণে নিতে দুই দেশ যৌথভাবে বা পৃথকভাবে তাদের ‘স্পেশাল ফোর্স’ বা কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে。 তবে এই দুঃসাহসিক অভিযানটি তখনই চালানো হবে, যখন মূল্যায়নে দেখা যাবে যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে。
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
গোপন আস্তানা: গত বছরের জুন মাসে ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল。
মজুতের পরিমাণ: বর্তমানে ইরানের হাতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে。
অভিযানের পথ: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ওই গোপন স্থাপনায় প্রবেশের জন্য একটি ‘খুবই সংকীর্ণ পথ’ রয়েছে, যা ব্যবহার করে কমান্ডোরা ইউরেনিয়াম জব্দ করতে সক্ষম হতে পারে。
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প。 সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম জব্দের এই পরিকল্পনা সফল হলে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তবে ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে。
ইরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় হাত দিলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ。 এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র কি আসলেই এই ‘হাই-রিস্ক’ কমান্ডো অপারেশন শুরু করে কি না।