• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

সংবিধানে ফিরল নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

Reporter Name / ১০৪ Time View
Update : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংবিধানে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আজ রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠা সংবলিত এই যুগান্তকারী রায়টি প্রকাশ করা হয়। এই ঐতিহাসিক রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।


রায়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আসন্ন চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে রায়ে একটি পথও খোলা রাখা হয়েছে—বর্তমান সংসদ চাইলে প্রয়োজনে এই ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

এই রায় প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল এই রায়কে নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়, বরং ‘পুরো জাতির জন্য একটি মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নিছক রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই একসময় এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন।

ফিরে দেখা: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উত্থান-পতন

  • প্রবর্তন (১৯৯৬): বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

  • বাতিল (২০১১): আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে একটি রায় দিলে এই ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে।

  • পুনর্বহাল: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হয়। সর্বোচ্চ আদালত নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেন এবং শেষ পর্যন্ত আগের রায়টিকে অবৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান।

রায়ের বেঞ্চ: সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ৬ জন বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায়ের মূল বিষয় সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৫ মার্চ ৭৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
কার্যকর হওয়ার সময় আসন্ন চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। বর্তমান সংসদ চাইলে এতে সংশোধন আনতে পারবে।
ইতিহাসের বাঁকবদল ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ২০১১ সালে বাতিল হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আপিল শুনানি শেষে এটি পুনরায় বহাল করা হলো।
বিচারপতিদের প্যানেল সাবেক প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের মোট ৭ জন বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category