চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের রুট দিয়ে জ্বালানি আমদানিতে যখন চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ঢাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ঢাকার করা কূটনৈতিক সহায়তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বাংলাদেশের কেনা জ্বালানি চালানের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়েছে ইরান সরকার।
ইরানের এই বার্তার পর বাংলাদেশ সরকারও অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। চিঠি পাওয়ার ঠিক এক দিন পর, অর্থাৎ বুধবার বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগ সরাসরি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর বাংলাদেশগামী ছয়টি জাহাজের একটি বিস্তারিত তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রেরণ করেছে।
হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর নৌপথ নিরাপদে পাড়ি দেওয়ার জন্য ইরানকে জাহাজের সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
জ্বালানির পরিমাণ: এই ছয়টি জাহাজে বাংলাদেশের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং প্রায় ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) বহন করা হচ্ছে।
প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য: ইরানকে দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি লোডিংয়ের তারিখ, কার্গোর মোট ধারণক্ষমতা, জ্বালানির উৎস ও লোডিং বন্দর এবং প্রতিটি জাহাজের আইএমও (IMO) শনাক্তকরণ নম্বর।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কেনা এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়েই চলাচল করবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ইরানের কাছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সহায়তা চাওয়া এবং তেহরানের এই তথ্য তলবের বিষয়টি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।