টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর রাঙ্গামাটির একটি ফিলিং স্টেশনে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) শহরের মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি দেওয়া শুরু হলে মুহূর্তেই সেখানে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। বিশেষ করে অকটেন সংগ্রহের জন্য অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল আরোহীদের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে, যা জেলার বর্তমান জ্বালানি সংকটের ভয়াবহ চিত্রটিই জনসমক্ষে তুলে ধরে।
জ্বালানি সরবরাহে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে জেলার বোরো মৌসুমের সেচকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। দীর্ঘ সময় প্রখর রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও চাহিদামতো পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন অনেক গ্রাহক।
এই তীব্র সংকটের কারণ সম্পর্কে মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল বাতেন জানান, ডিপো থেকে বর্তমানে ২০২৫ সালের বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় এই বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। তিনি উল্লেখ করেন, আগে চার হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করতে যেখানে চার দিন সময় লাগত, এখন গ্রাহকদের তীব্র চাহিদার কারণে সেই একই পরিমাণ অকটেন মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানিয়েছেন, জ্বালানি বিতরণে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে আজ থেকে জেলার প্রতিটি পাম্পে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি করে বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।
কেউ যাতে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেখানেই মজুত বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত অবৈধ মজুতের তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া না গেলেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।