সারা বছরের কষ্টের ফসল বোরো ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততার মাঝেই সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতে জেলার চারটি উপজেলার পৃথক হাওরে ধান কাটার সময় পাঁচজন কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
তাহিরপুর ও জামালগঞ্জের চিত্র
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন জানায়, শনিবার দুপুরে কৃষকরা যখন হাওরে ধান কাটায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই আকাশ কালো করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাতের শিকার হন আবুল কালাম নামে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ কৃষক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রায় একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণ হারান চানপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হোসেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় সেখানে আরও একজন কৃষক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী।
শিক্ষার্থী ও কিশোরের মৃত্যুতে ধর্মপাশায় মাতম
বজ্রপাতে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে ধর্মপাশা উপজেলায়। সেখানে পৃথক দুটি স্থানে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। এর মধ্যে পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান ছিলেন বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারের সহায়তায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে তাকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়। একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে প্রাণ গেছে মাত্র ১৩ বছর বয়সী কিশোর কৃষক রহমত উল্লাহর।
দিরাইয়ে কৃষকের মৃত্যু ও পুলিশের পদক্ষেপ
অন্যদিকে, দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন ৩৮ বছর বয়সী কৃষক লিটন মিয়া। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ জানান, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই দিনে আকস্মিক এই বজ্রপাতে কর্মক্ষম পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় পুরো সুনামগঞ্জজুড়ে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস।