মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক শারীরিক ও কাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাড়া জাগানো প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভয়াবহ ওই হামলায় গুরুতর আহত মোজতবার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে এবং তাকে একটি কৃত্রিম পা সংযোজনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার হাতে একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও, সামনে তাকে আরও বেশ কয়েকটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারজন ভিন্ন কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শারীরিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হলেও মানসিকভাবে তিনি এখনও সক্ষম এবং চারপাশের পরিস্থিতি বুঝতে পারেন।
মোজতবা খামেনির এই বর্তমান অবস্থা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গত মার্চ মাসের মূল্যায়নেরই শতভাগ সত্যতা প্রমাণ করে, যেখানে তিনি আগেই দাবি করেছিলেন যে যৌথ হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এক ভয়াবহ মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং মোজতবার স্ত্রী নিহত হওয়ার পর, চরম রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেই কনিষ্ঠ পুত্র মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসানো হয়। কিন্তু তার বর্তমান এই শারীরিক অবস্থা রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব পালনে কতটা সহায়ক, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শারীরিক এই অক্ষমতার কারণে ইরানের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও মোজতবা খামেনির প্রভাব ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বনামধন্য থিংক ট্যাংক ‘চ্যাথাম হাউস’-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, মোজতবার হাতে এখন আর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ নেই। মূলত ইরানি জেনারেলরাই এখন প্রধান সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন এবং কেবল আনুষ্ঠানিকতা ও সম্মানের খাতিরে তা ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বা অনুমোদনের জন্য মোজতবার সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এমনকি চলমান যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেও সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল যৎসামান্য।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার সার্বিক নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থার কারণে বর্তমানে অত্যন্ত সেকেলে ও গোপনীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। হাতে হাতে সিলমোহর করা চিঠির মাধ্যমেই তার কাছে বার্তা পৌঁছানো হয় এবং একইভাবে তিনি তার সিদ্ধান্ত জানান। যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো জোর দিয়ে দাবি করে আসছেন যে, রাষ্ট্রের যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মোজতবা খামেনিই মূল ভূমিকা পালন করছেন। তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার এই শারীরিক শূন্যতা ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণে জেনারেলদের প্রভাবকে আরও নিরঙ্কুশ করে তুলেছে।