• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
Headline
মানবপাচারের মহোৎসব ও আমাদের দায় মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপি এলিজার মনোনয়নপত্র জমা সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান পুনর্বহাল সিঙ্গাপুরে তেলের মজুত গড়বে সৌদি আরামকো ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি টিআইবির চলতি বছরই ১ লাখ আনসার সদস্যকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা: আনসার ডিজি দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত গেলেন এনএসআই মহাপরিচালক দেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে: হাসিনাকে দুলু রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দিয়েছে সরকার

পারমাণবিক হামলার প্রশ্নে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প: চুক্তির শর্তে অনড় ওয়াশিংটন, শঙ্কার মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে

Reporter Name / ১৩৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূলে না আসা পর্যন্ত ইরানের সাথে কোনো ধরনের চুক্তিতে না যাওয়ার ব্যাপারে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কড়া বার্তা দেন। তবে ব্রিফিং চলাকালে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে কি না—একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন ট্রাম্প। তিনি এই প্রশ্নটিকে ‘নির্বোধের মতো’ আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় জানান, সাধারণ সমরাস্ত্র দিয়েই যখন তারা ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে দিয়েছেন, তখন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজনীয়তাই নেই। তিনি আরও যোগ করেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র কখনোই কারও ব্যবহার করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য একদিকে যেমন পারমাণবিক যুদ্ধ এড়ানোর বার্তা দেয়, তেমনি অন্যদিকে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের চরম অহংকারও প্রকাশ করে।

কূটনৈতিক বক্তব্যের আড়ালে মাঠপর্যায়ে কিন্তু উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পেন্টাগনের সূত্রমতে, ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ এলাকার ভেতর থেকে ইরানের তেল পরিবহনকারী একটি জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ওই জাহাজটি অবৈধভাবে তেল পাচারের সাথে জড়িত ছিল। এর পাশাপাশি, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট বা নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ দাবি করে ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে মাইন স্থাপনকারী কোনো নৌযান দেখলেই যেন সরাসরি গুলি চালানো হয়। পেন্টাগন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুটি অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরীসহ অন্তত ২৬টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় টহল দিচ্ছে।

মার্কিন এই সামরিক মহড়ার মধ্যেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির অতি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে যেকোনো সময় বিধ্বংসী হামলা চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত তেল আবিব। এই মুহূর্তে তারা কেবল মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত বা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এমন প্রকাশ্য হুমকি পুরো অঞ্চলটিকে একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে।

অন্যদিকে, চতুর্মুখী এই সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান সংঘাত নয়, বরং আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই এই সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চায়। তবে তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক কঠোর অবরোধ, পূর্বের চুক্তি ভঙ্গের ইতিহাস এবং প্রতিনিয়ত দেওয়া সামরিক হুমকি-ধামকিই এই শান্তি আলোচনার পথে প্রধান অন্তরায়। চরম এই জাতীয় সংকটের মুহূর্তে নিজেদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ইরানি শীর্ষ নেতারা। তাদের দাবি, আলোচনাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো অবকাশ নেই; নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category