মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার মাঝে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের কড়া নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। সম্প্রতি ভারত ও ইরানের মধ্যে পুনরায় কিছু যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরুর খবরের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সতর্কতা জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন আকাশ বা স্থলপথের কোনো মাধ্যমেই ইরানে ভ্রমণ না করেন। মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং এর জেরে আকাশপথে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি।
দূতাবাস তাদের নির্দেশনায় জানিয়েছে, যারা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন, তাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরতে হবে। তবে এই প্রস্থান প্রক্রিয়ায় যেন কোনো লজিস্টিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়, সেজন্য নাগরিকদের অবশ্যই দূতাবাসের সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, দূতাবাসের পূর্বানুমোদন ও যোগাযোগ ছাড়া নিজে থেকে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র নির্ধারিত স্থল সীমান্তগুলো ব্যবহার করে নিরাপদে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যেকোনো জরুরি সহায়তার জন্য বেশ কয়েকটি মোবাইল হেল্পলাইন নম্বর এবং একটি ডেডিকেটেড ইমেইল (cons.tehran@mea.gov.in) চালু করেছে তেহরানস্থ ভারতীয় দূতাবাস।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত চরম আকার ধারণ করার পর থেকেই ওই অঞ্চলে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্প্রতি সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা শোনা গেলেও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং পুরো পশ্চিম এশিয়ায় আকাশসীমা ব্যবহারের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাত শুরুর সময় ইরানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, শিয়া তীর্থযাত্রী এবং ব্যবসায়ীসহ প্রায় চার থেকে নয় হাজার ভারতীয় অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন। উদ্ভূত এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজ দেশের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারত, আর তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা বহাল থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।