ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ইসির এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন মনিরা শারমিন।
শুনানির বিস্তারিত
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে তাঁর আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে চারজন নির্বাচন কমিশনার এই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, আইনি পর্যালোচনা শেষে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পায়নি নির্বাচন কমিশন। তাই তাঁর আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে।
বাতিলের কারণ ও আইনি বাধ্যবাধকতা
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধেই রোববার ইসিতে আপিল করেছিলেন তিনি।
মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ এর বিধান অনুযায়ী— সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর অন্তত তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
হলফনামার তথ্য
মনিরা শারমিনের জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামার তথ্য থেকে জানা যায়, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ওই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।
হিসাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তাঁর মাত্র সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। যেহেতু আইন অনুযায়ী নির্ধারিত তিন বছর সময়সীমা এখনো পার হয়নি, তাই তাঁর মনোনয়নপত্র আইনত বৈধ নয় বলে জানিয়েছে ইসি।