গাইবান্ধা সদর উপজেলায় তীব্র মাত্রার বসন্ত জাতীয় রোগে (স্থানীয়ভাবে গুটি বসন্ত হিসেবে পরিচিত) আক্রান্ত হয়ে ইতিশ চন্দ্র দাস নামের এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসার বদলে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই রোগে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের তিন সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়।
নিহত ইতিশ চন্দ্র দাস সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের খোলাহাটী বোডঘর মধ্যপাড়া গ্রামের প্রাণবন্ধু চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি স্থানীয় খোলাহাটী উচ্চবিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার থেকে তিনি এই সংক্রামক রোগে ভুগছিলেন।
শিক্ষক ইতিশ চন্দ্র দাস অসুস্থ হওয়ার পর কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে পাশের গ্রামের এক কবিরাজের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার কারণে রোববার রাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত শিক্ষকের স্ত্রী অর্চনা রানী জানান, পরিবারের মধ্যে কয়েক দিন আগে প্রথমে তার নিজের শরীরে এ রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তিনি সুস্থ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তার স্বামী এবং দুই সন্তানও আক্রান্ত হন।
অর্চনা রানী আরও জানান, গত বুধবার ঢাকা থেকে তাদের বড় ছেলে প্রিমল দাস বাড়িতে এলে সেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে তাদের ছোট ছেলে অর্মীত দাসও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছে।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বসন্ত জাতীয় কোনো মারাত্মক সংক্রামক রোগের কারণেই শিক্ষক ইতিশ চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এটি ঠিক কোন ধরনের বসন্ত বা সংক্রামক রোগ, তা নিশ্চিত করতে এবং আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।