আমার ছোটবেলার বন্ধু সুবেহ খান। দেশের নামকরা কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব।
সে লন্ডন এবং শিকাগোতে চারটি ফুল ম্যারাথন দৌড়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শহরে হাফ ম্যারাথন দৌড়েছে বিশটি।
ফুল ম্যারাথন— ৪২.২ কিলোমিটার।
হাফ ম্যারাথন— ২১.১ কিলোমিটার।
৫৯— এর আগেই কেউ কেউ বুড়ো হয়ে যায়। আর আমার বন্ধু এ বয়সে বিয়াল্লিশ কিলোমিটার দৌড়াচ্ছে!
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম— ‘এ বয়সে তোমার এ শারীরিক স্ট্যামিনার রহস্য কী?’
সে হেসে বলল— ‘এটা এ বয়সের স্ট্যামিনা নয়। ত্রিশ বছর বয়স থেকে স্বাস্থ্য রক্ষার ফসল।’
সুবেহ উত্তর দিলো, ‘ষাট/সত্তরে গিয়ে তুমি যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকতে চাও, তাহলে তোমাকে ত্রিশ থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ ত্রিশের পর যৌবনের উজ্জ্বল বাতিগুলো নিভতে শুরু করে। শরীরে ভাটা নামে। তাই তুমি যদি ত্রিশ থেকে সাবধান না হও, তবে দ্রুত শারীরিক সক্ষমতা হারাবে। বার্ধক্যে কষ্ট পাবে।’
‘ত্রিশে তাহলে কী করা উচিত, যাতে সত্তরে গিয়েও ফিট থাকা যায়?’ আমি বললাম।
সুবেহ হেসে বলল, ‘এর জন্য যুদ্ধ করা লাগে না। খুব সিম্পল কিছু নিয়ম মানলেই হয়।’
আমি মৃদু হেসে বললাম— ‘নিয়মগুলো বলো। দেখি তোমার সাথে আগামী বছর ম্যারাথন দৌড়াতে পারি কিনা।’
সুবেহ আমাকে বার্ধক্যে শরীর ফিট রাখার জন্য ত্রিশ বছর বয়স থেকে কী কী করা উচিত, তা বলল।
১) কমিটমেন্ট
প্রথমে নিজের প্রতি কমিটমেন্ট করতে হবে যে বুড়ো বয়সে আমি শারীরিকভাবে সক্ষম থাকব। এ প্রতিশ্রুতি ভাঙা যাবে না। শুরুটা এখান থেকেই।
২) শৃঙ্খলা
এটি ছাড়া ব্যায়াম-ট্যায়াম করে লাভ নেই। সব গোল্লায় যাবে। সত্তরে গিয়ে ভালো থাকতে হলে ত্রিশে জীবনকে একটি রশি দিয়ে বাঁধতে হবে। রশিটির নাম ‘ডিসিপ্লিন’।
৩) খাবার
‘You are what you eat— আপনি যা খান, আপনি তাই।’
অতএব অস্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন জাংক ফুড, খাওয়া যাবে না। পেট ভর্তি করে না খাওয়া ভালো। ৮০% পেট ভর্তি হলে টেবিল থেকে উঠে যাওয়া উচিত। রাতে ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে কিছু খাওয়া যাবে না।
৪) চিনি
চিনি শরীরের অন্যতম ভয়ংকর শত্রু। ত্রিশে এসে মিষ্টি জাতীয় খাবার জীবন থেকে বিদায় দেওয়া অনিবার্য। কোল্ড ড্রিংকও নিষিদ্ধ। চা-কফিতে চিনি খাওয়া মানে জেনেশুনে বিষপান।
৫) ঘুম
সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এ ব্যাপারে যে যার মতো রুটিন করে নিলে ভালো। শুধু একটি ব্যাপার মাথায় রাখা উচিত, তা হলো, রাত জাগা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। হয়তো অনেকেই ব্যস্ততার কথা বলবেন। কিন্তু টাইম ম্যানেজমেন্ট ঠিকভাবে করলে এটি একেবারে অসম্ভব নয়।
৬) শরীরচর্চা
ষাট-সত্তরে গিয়ে ভালো থাকতে চাইলে অবশ্যই শরীরচর্চা করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা খুব ভালো কাজ দেয়। সম্ভব হলে মাংসপেশী দৃঢ় করার ব্যায়ামও করা উচিত। নয়তো আস্তে আস্তে সেগুলো দুর্বল হওয়া শুরু করবে। (বিশেষ করে পঞ্চাশে মাসল ব্যায়াম মাস্ট)
৭) লিফট
যতদূর সম্ভব লিফট এড়িয়ে চলতে হবে। শরীরে যতটুকু কুলায়, ততটুকু সিঁড়ি ভাঙুন। বার্ন ইয়োর ক্যালোরি, নট ইলেকট্রিসিটি।
সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের একটি হচ্ছে, সুস্থ অবস্থায় মারা যাওয়া। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী হয়ে মারা যাওয়া খুব খুব কষ্টের। অন্তত এই একটি কারণে আমাদের বুড়ো বয়সে সুস্থ থাকার চেষ্টা করা উচিত।
এ চেষ্টা শুরু করা উচিত ত্রিশে।
তাহলেই সত্তরের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি সম্ভব। বয়স যদি ত্রিশ পার হয়ে যায়, সমস্যা নেই— এখন থেকে শুরু করুন।
একেবারে শুরু না করার চাইতে দেরি করে শুরু করা ভালো।
সত্তরের পরও আপনি ভালো থাকুন।।অনেক ভালো।
পাদটীকা: সুবেহের পরামর্শের ব্যাপারে আপনার মতামত কী?