রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারা অনুযায়ী মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, বাদী বা সাক্ষীর জবানবন্দি এবং আনুষঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করে যদি আদালতের কাছে মনে হয় যে মামলার পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তা প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল করতে পারেন। এর আগে সকালে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মার্মা বাদী হয়ে এই নালিশি মামলার আবেদন করেছিলেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন এবং বিকেলে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান।
মামলার আবেদনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা ছাড়াও সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছিল। বাদীর অভিযোগ ছিল, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এফ-৭ যুদ্ধবিমানকে জনবহুল এলাকার ওপর প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের অনুমতি দিয়ে আসামিরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার পর প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং উদ্ধার অভিযানে অবহেলার অভিযোগও আনা হয়েছিল এজাহারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয়। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন স্কুলের শিক্ষার্থী। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আরও প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। মৃতদের পরিবারপ্রতি ৫ কোটি টাকা এবং আহতদের জন্য নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো পরিবার তা পায়নি বলে বাদী তাঁর আবেদনে দাবি করেছিলেন। তবে আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত এই আইনি প্রক্রিয়াটি এখানেই থমকে গেল।