আনন্দ, বেদনা, প্রেম, বিরহ কিংবা প্রতিবাদ—বাঙালির প্রতিটি অনুভূতির সঙ্গেই এক অবিচ্ছেদ্য নাম বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সার্ধশতবর্ষেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আজও বাঙালির মনন, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও চেতনার প্রধানতম বাতিঘর। আজ ২৫ বৈশাখ (৮ মে ২০২৬), কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী।
রবীন্দ্রনাথ কেবল একজন কবিই নন, তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই দিনটিকে ঘিরে তাই প্রতিবছরই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন সেজে ওঠে এক বিশেষ রঙে। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিক প্রভাব
বাংলা সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও দর্শনের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের হাতের জাদুর ছোঁয়া পড়েনি। তাঁর রচিত “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছে। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য এশিয়া মহাদেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান।
শুধু সৃষ্টিশীল সাহিত্য নয়, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও রবীন্দ্রসংগীত ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এক প্রবল অনুপ্রেরণার শক্তি। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক থেকে শুরু করে চিত্রকলা—সবখানেই তাঁর প্রতিভার দীপ্তি আজও সমান উজ্জ্বল। সমাজ বদলালেও রবীন্দ্রনাথ আজও বাঙালির অনুভূতিতে চিরন্তন, যেখানে নতুন প্রজন্মও খুঁজে পায় মানবতা, ভালোবাসা ও জীবনের গভীর সত্য।
কৃষি, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ কেবল কলমেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, কৃষি সংস্কারক এবং সমাজসেবক। শান্তিনিকেতনে তাঁর গড়ে তোলা ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাব্যবস্থা আজও প্রাসঙ্গিক। এছাড়া বাংলাদেশের শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরে জমিদারি পরিচালনার সময় সাধারণ কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও গ্রামীণ সমাজকল্যাণে তাঁর নেওয়া নানা উদ্যোগ তাঁর বহুমাত্রিক চিন্তার অনন্য নিদর্শন বহন করে।
রবীন্দ্রজয়ন্তীর এবারের প্রতিপাদ্য ও কর্মসূচি
এ বছর রবীন্দ্রজয়ন্তীর জাতীয় প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন হাতে নেওয়া হয়েছে।
শিলাইদহে মূল অনুষ্ঠান: কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।
স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহে আয়োজন: নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
শিল্পকলা একাডেমি: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আজ থেকে আগামী ১১ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
বাংলা একাডেমি: আজ বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সেমিনার, রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ছায়ানটের রবীন্দ্র উৎসব: দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসবের আয়োজন করেছে, যেখানে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে কবিগুরুকে স্মরণ করা হবে।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিশ্বকবিকে স্মরণ করার এই দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অনবদ্য উদযাপনের দিন।