মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় একটি সুখবর এসেছে। দেশটির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি’ (ডিটিসি) চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশাল এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে আগামী সোমবার থেকে রাজধানীর দারুস সালামে অবস্থিত বাংলাদেশ–কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিকেটিটিসি) চালক বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আশায় থাকা বহু দক্ষ বাংলাদেশির জন্য দুবাইয়ের মতো একটি আধুনিক শহরে সম্মানজনক পেশায় যুক্ত হওয়ার দারুণ একটি সুযোগ তৈরি হলো।
রোববার (১৭ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। দীর্ঘ বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক দক্ষ চালক নিয়োগের এই যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য দুবাই ট্যাক্সির কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি দুবাই যাওয়ার পর কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণকালীন সময়েও যাতে কোম্পানি তাদের যথাযথ বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করে, সেই বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানান। পাশাপাশি, শুধু পরিবহন খাতেই নয়, বরং চিকিৎসা সেবায়ও বাংলাদেশিদের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আরব আমিরাতের কোম্পানিগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা, সততা ও পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাদের প্রতিষ্ঠানে ট্যাক্সি ও বিলাসবহুল লিমুজিন চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক। শুধু পুরুষরাই নন, বাংলাদেশি নারী কর্মীরাও বর্তমানে দুবাই বিমানবন্দরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ট্যাক্সি চালকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। প্রতিনিধিদলটি আরও জানায়, সোমবার শুরু হতে যাওয়া এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রথম ধাপে যাচাই-বাছাই করে প্রায় দেড় হাজার চালককে চূড়ান্ত করা হবে এবং বছরজুড়ে ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার বাংলাদেশি চালক নিয়োগের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাদের রয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় যাতে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উল্লেখ করেন যে, দুবাই যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর্মীদের মাত্রাতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয় এবং বেশিরভাগ দরিদ্র কর্মীই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই টাকার সংস্থান করেন। তাই অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে তা যেকোনো মূল্যে ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকটিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী পাঠানোর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আল আনাস ওভারসিজ’-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ড্রাইভারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে ক্লিনার, টেকনিশিয়ান এবং মেকানিক পদেও বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে তারা অত্যন্ত আগ্রহী।