সম্প্রতি আমাদের এক তরুণ সহকর্মী বুলেট বৈরাগী রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কুমিল্লা পৌঁছে সিএনজিতে বাড়ি যাওয়ার পথে তিনি ছিনতাইকারীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন।
এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক খবর আমরা প্রায়ই শুনি। সে প্রেক্ষিতে এই রাতে ভ্রমণের ব্যাপারে এই সতর্কতামূলক পোস্ট—
১) যথাসম্ভব ট্রেনে ভ্রমণ করুন। বাসের তুলনায় ট্রেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ।
২) একা ভ্রমণ না করাই ভালো। সম্ভব হলে সঙ্গে কাউকে রাখুন।
৩) নারী ও শিশু নিয়ে গভীর রাতে ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।
৪) কোথায় যাচ্ছেন, কোন গাড়িতে উঠেছেন, সিট নম্বর কত—এসব তথ্য এবং গাড়ির ছবি ও নম্বর বিশ্বস্ত কাউকে পাঠিয়ে রাখুন।
৫) শেয়ারের গাড়ি বা সিএনজিতে উঠবেন না। চালকসহ গাড়ির ছবি তুলে পরিচিত কারো কাছে পাঠিয়ে দিন। ড্রাইভার ছবি তুলতে আপত্তি করলে সেই গাড়িতে না ওঠাই ভালো। উবার বা রাইড শেয়ার ব্যবহার করলে গাড়ির নম্বর মিলিয়ে নিন।
৬) বিশ্বস্ত কারো সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করুন। চলতি পথে প্রকাশ্যে টাকা-পয়সা বের করা থেকে বিরত থাকুন।
৭) অপরিচিত কারো ব্যাগ বহন করবেন না। কার ব্যাগে কী আছে, আপনি জানেন না। সাহায্য করতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারেন। (এটি যেকোনো ভ্রমণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য)
৮) অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানি খাবেন না। ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ আছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হোন।
৯) ভোর হওয়ার আগে গন্তব্যে পৌঁছে গেলে রেলস্টেশন বা বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করুন। লোকজন চলাচল শুরু হলে বের হন।
১০) উটকে নিরাপদে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেটিকে বেঁধে রাখা। তেমনি, রাতের ভ্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সে সময় ভ্রমণ না করা।
বুলেট বৈরাগীর মা তাঁর অপেক্ষায় ছিলেন।
তাঁর স্ত্রী অপেক্ষায় ছিলেন।
তাঁর শিশুপুত্র বাবার অপেক্ষায় ছিল।
কিন্তু তিনি তাঁদের কাছে ফিরতে পারেননি।
একটি দুর্ঘটনার জের একদিন বা দুদিনে শেষ হয় না—যুগের পর যুগ এর ভার বইতে হয়। কখনো কখনো তা একটি পরিবারের ভবিষ্যৎই ধ্বংস করে দেয়।
আমি আমার অনুজ সহকর্মীর আকস্মিক প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
আসুন মায়া ছড়াই