একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বক্তৃতা শেষ করে যখন ডায়াস থেকে নেমে এলাম, তখন দেখি মিষ্টি একটি বিদেশি মেয়ে এগিয়ে এলো। আমি অবাক হয়ে তাকাতেই বলল, ‘স্যার, মে আই টক টু ইউ? আমি আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্যই এখানে এসেছি।’
তার চেহারায় এক অদ্ভুত মায়া! চোখগুলো নীলচে, স্বচ্ছ চশমার কাচ ভেদ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে উজ্জ্বলতা।
আমি বললাম, ‘সিউর, ইউ ক্যান।’
সে কিছুটা ইতস্তত করে বলল, ‘আমি আফগানিস্তান থেকে এসেছি। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ি। এখন আমি কোরিয়ায় একটি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এ প্রোগ্রাম সব খরচ কভার করে না। সেখানে তিন মাস থাকতে হবে—সে জন্যও হাতখরচ লাগবে। কিন্তু আমার হাতে অতো টাকা নেই। ক্যান ইউ হেল্প মি?’
আমি বললাম, ‘ডিয়ার ডটার, উই ডু নট হেল্প, উই স্ট্যান্ড বিসাইড—আমরা কাউকে সাহায্য করি না, পাশে দাঁড়াই। তুমি তোমার কাগজপত্র আমাকে মেইল করতে পারো?’
‘পারব,’ মেয়েটি উত্তর দিল।
‘তাহলে পাঠিয়ে দিও,’ বলে আমি তাকে ইমেইল অ্যাড্রেস দিলাম। তারপর বললাম, ‘আসলে কাজটা করে আমাদের সংগঠন পে ইট ফরোয়ার্ড। আমি না। কিন্তু তোমার কাগজপত্র ঠিক থাকলে তাঁরা এগিয়ে আসবেন বলে আমার ধারণা।’
পরদিন তার মেইল পেলাম। দেখা গেল, চাহিদা তেমন বেশি নয়। কয়েকশ ডলার।
পে ইট ফরোয়ার্ডের একজন সহৃদয় ডোনার তার পাশে দাঁড়ালেন। সে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়া চলে গেল।
২) বাংলাদেশে পড়াশোনা শেষ করে মেয়েটি আমেরিকা চলে যায়। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব নর্দান আইওয়া থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে।
৩) কিছুদিন আগে সে আমেরিকায় একটি স্টার্টআপ শুরু করেছে।
শেষ করি, আমাদের আফগান মেয়েটির ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া একটি কোটেশনের বঙ্গানুবাদ দিয়ে –
‘প্রতিটি দিন হচ্ছে নতুন করে শুরু করার সুযোগ। গতকালের ব্যর্থতা নিয়ে ভেবো না—নতুন আশা নিয়ে আজকের দিনটি শুরু করো।’ (Catherine Pulsifer)
মেয়েটি চরম দুঃসময়ে নিজের মধ্যে নতুন আশার আগুন জ্বালাতে পেরেছিল বলেই পৃথিবী তার পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়েছে।
ছবি- প্রাইভেসি রক্ষার্থে মেয়েটির চেহারা ব্লার ও সামান্য এডিট করা হয়েছে।
পাদটীকা: মেয়েটির পাশে পে ইট ফরোয়ার্ড একবারই দাঁড়িয়েছিল। এরপর তার সহায়তা লাগেনি।