আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় আবারও ফিরে এলো স্কুলছাত্রী ও শিক্ষার্থী অপহরণের সেই পুরোনো বিভীষিকা। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোরনো (Borno) রাজ্যে একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন অতর্কিত হামলা চালিয়ে বহু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে শনিবার (১৬ মে) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বোরনো রাজ্যের এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওয়ো (Oyo) রাজ্যেও পৃথক আরেকটি স্কুল থেকে শিক্ষার্থী অপহরণের খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বোরনো রাজ্যের আসকিরা-উবা স্থানীয় সরকার এলাকার ‘মুসা প্রাইমারি অ্যান্ড জুনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে’ এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা উবাইদাল্লাহ হাসান রয়টার্সকে জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে যখন স্কুলের স্বাভাবিক পাঠদান চলছিল, তখন হঠাৎ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। বন্দুকধারীদের দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জীবন বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থী পাশের ঝোপঝাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, দুর্ভাগ্যবশত এক বড় অংশের শিক্ষার্থীকে ধরে মোটরবাইকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
হামলার শিকার স্কুলের একজন শিক্ষক জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নাইজেরিয়ার সক্রিয় কোনো বিদ্রোহী বা সশস্ত্র গোষ্ঠী এই কাপুরুষোচিত হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মিদালা উসমান বালামি। তিনি অপহৃত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে বোরনো রাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই বোকো হারাম এবং আইএসডব্লিউএ (ISWAP)-এর মতো কট্টরপন্থী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে বোরনোর চিবোক (Chibok) শহরের একটি স্কুল থেকে প্রায় পৌনে তিনশ স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে এই অপরাধী চক্রগুলো। আদর্শিক কারণের চেয়েও এখন ‘ফিরতি পণ’ বা মোটা অঙ্কের অর্থ (Ransom) আদায় করাকে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বানিয়ে তুলেছে।
এদিকে, শুক্রবার বোরনোর ঘটনার প্রায় সমসাময়িক সময়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো (Oyo) রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশের দুটি ভিন্ন প্রান্তে একই দিনে স্কুলে হামলার ঘটনায় অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ওয়ো রাজ্যের ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নাইজেরিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃত শিক্ষার্থীদের অবস্থান চিহ্নিত করতে এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুরো এলাকা জুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে।