• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন

‘জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ করে গেছি’: সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অন্তরীণ সরকার’ আখ্যা দিয়ে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দাবি করেছেন, আদর্শিক বিরোধিতার জেরে তাকে সরকারের ভেতরে কোণঠাসা করা হয়েছিল। নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষার্থে তিনি একপর্যায়ে চুপ হয়ে গেলেও তার ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসা রটানো থামেনি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘সব দোষ মাহফুজ আলমের ইতিবৃত্ত’ শিরোনামে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব ক্ষোভ ও বিস্ফোরক দাবি জানান।

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, তিনি আজ পর্যন্ত জুলাইয়ের পক্ষের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে হওয়া বিষোদগারের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই আসছে জুলাইয়ের তথাকথিত পক্ষের লোকদের কাছ থেকে; বিশেষ করে জাশি, এনসিপি এবং উগ্র ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ তাকে আক্রমণের সময় বা সুযোগই পাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি নিজের মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মাহফুজ আলম বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে তার ৯ মাসের দায়িত্ব পালনকে যদি অপরাধ বা ‘গাদ্দারি’ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তার আগের ও পরের ৯ মাসের উপদেষ্টারা কেন দায়মুক্ত থাকবেন?

মাহফুজ আলম তার পোস্টে জামায়াত-শিবিরের আদর্শিক বিরোধিতার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার বা অবনমন করার রাজনীতি নিয়ে জামায়াতকে প্রশ্ন করা কোনো অপরাধ নয় দাবি করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের একচ্ছত্র বয়ান যেন নির্দিষ্ট কোনো দলের খপ্পরে না পড়ে, সেই চেষ্টা তিনি করেছিলেন। তবে তিনি কখনোই শাহবাগের ফ্যাসিবাদের জাশি-বিদ্বেষী চিন্তাকে সমর্থন করেননি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই, সংসদ সদস্য নন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতাও নন; তা সত্ত্বেও তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে।

পোস্টের শেষাংশে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহফুজ আলম লিখেন, শিবিরের কর্মী ও অনলাইন বটরা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফাঁসির দাবি তুলছে এবং তার মৃত্যুকামনা করছে। এমনকি তাকে একবার প্রতীকীভাবে জবাইও করা হয়েছে এবং তাকে অনেক আগেই হত্যাযোগ্য করার স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উগ্র ডানপন্থী ও এনসিপিও একই মানসিকতা পোষণ করে দাবি করে তিনি বলেন, তাকে ‘জুলাই ধ্বংসের হোতা’ সাজিয়ে মূলত জুলাইয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলনকেই তারা হাস্যকর ও খেলো বানিয়ে ফেলছে। গালিবাজি, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিদ্বেষের রাজনীতি বন্ধ করে দেশের নীতিনির্ধারণ ও আদর্শ নিয়ে সুস্থ তর্কের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category