• মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
বডিশেমিংয়ের উত্তর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা দিনে ১০ খুন: জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ নৌকাযোগে নারীকে পুশইনের চেষ্টা, রোকনপুর সীমান্তে বিএসএফের অপচেষ্টা রুখল বিজিবি সীমান্তে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ খতিয়ে দেখতে দিল্লির উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন ৫৪ জেলার পানিতে বিষাক্ত আর্সেনিক ও আয়রন, বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি আদ-দ্বীনের অন্য শাখা চলতে বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুবাইয়ে ধৃত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ৩৩ মামলা, প্রত্যর্পণে নথিপত্র অনুবাদ হচ্ছে আরবিতে রামিসা হত্যা মামলা: আসামিদের পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের গ্যালারিতে ট্রুডো ও কেটি পেরি, নতুন করে বিশ্বমিডিয়ায় সম্পর্কের গুঞ্জন

ভারতের পুশইন মুসলিম কমানোর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল

Reporter Name / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
BSF push-in attempts

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের পর এবার আরেক সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও মুসলিম জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যাগত ভারসাম্য পরিবর্তনের এক সুদূরপ্রসারী ও কৌশলগত রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে অতি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হওয়ার পর এই তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর অংশ হিসেবে বহু প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী ভারতের বৈধ বাংলাভাষী মুসলিমদেরও ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ বা ‘রোহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) উসকানিমূলক তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের প্রধান প্রধান মানবাধিকার সংস্থা বিজেপির এই বৈষম্যমূলক ও চরম সাম্প্রদায়িক এজেন্ডার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানালেও নীতিনির্ধারকেরা এই নীতিতেই অটল রয়েছেন।

অন্যদিকে, ভারতের এই আকস্মিক, আগ্রাসী ও উসকানিমূলক পুশব্যাক তৎপরতা রুখতে এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে সীমান্তজুড়ে ইতিহাসে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্তমানে বিজিবির প্রায় ৬০ হাজার সশস্ত্র সদস্য চার শিফটে বিভক্ত হয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্রভাবে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, যাতে কোনোভাবেই ভারতের পুশইনের শিকার কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়।

ভোটার তালিকায় ‘নিবিড় সংশোধন’ ও কৃত্রিম ধস

ভূ-রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগেই এই সুদূরপ্রসারী সাম্প্রদায়িক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যটির ভোটার তালিকায় একটি বিশেষ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ‘নিবিড় সংশোধন’ বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) চালানো হয়। এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬০ লাখ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে একযোগে কেটে দেওয়া হয়, যার একটি বিশাল সিংহভাগই ছিল রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভোটের বাক্সে। মুসলিম ভোটারদের নাম পরিকল্পিতভাবে গায়েব করে দেওয়ায় রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের চিরাচরিত ও শক্তিশালী ভোটব্যাংকে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ধস নামে।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, রাজারহাট-নিউটাউনের মতো যে সমস্ত বুথে ৮৮ শতাংশের বেশি ভোটার মুসলিম, সেখানেও প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। এই অলৌকিক ও অস্বাভাবিক ভোটের চিত্র স্বাভাবিকভাবেই ভারতের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ, ক্ষোভ ও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যেসব সীমান্তবর্তী জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি এবং যারা রাজ্যের সরকার গঠনে বড় নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, সেখানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার হার ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। সরকারি নথি অনুযায়ী, শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলাতেই ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর চব্বিশ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদহে ২ লাখ ৪০ হাজার মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে এক কলমের খোঁচায় বাদ দেওয়া হয়েছিল। পুরো নির্বাচনজুড়েই বিজেপি ‘অবৈধ বাংলাদেশী খেদাও’ এবং ‘রোহিঙ্গা মুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’ স্লোগানকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অভাবনীয় নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছে।

জনসংখ্যাগত উদ্বেগ বনাম ‘ধর্মীয় কার্ড’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে দিল্লির কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার এবং আরএসএস-এর নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগ ও ভীতি রয়েছে। তবে ভারতের থিংকট্যাংকগুলো এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ’-এর কাল্পনিক তথ্য ছড়ালেও, বাস্তব কারণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূলত স্থানীয় অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতরের উচ্চ জন্মহার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাল্যবিয়েই এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উৎস, যার সাথে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

ভারতের রাজনীতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট সীমান্তবর্তী জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা যদি ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তবে হিন্দুত্ববাদের উগ্র রাজনীতি করা বিজেপির পক্ষে সেখানে নির্বাচনী আসন জেতা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এই রাজনৈতিক হিসাব মেলাতেই মূলত দিল্লির শাসকেরা নিয়মিত ‘ধর্মীয় কার্ড’ ও ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসেন।

২০১১ সালের ভারতের সর্বশেষ সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী, আসামের মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ, যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান আনুমানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে এখন আসামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ (২৭%)। ২০২৬ সালের বর্তমান ধারায় রাজ্যে মুসলমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ থেকে ৭০ লাখের কাছাকাছি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ ছুঁয়েছে। বর্তমানে আসামের ধুবড়ি জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়া বরপেটা, নগাঁও ও করিমগঞ্জেও তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠ। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠী বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশের বেশি।

দিল্লির চীনভীতি ও সীমান্ত অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি

দিল্লির প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের গোপন নথির মতে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলিমদের এই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভবিষ্যতে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের সময় ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের অভ্যন্তরীণ হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে এই অঞ্চলগুলোর খুব কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থানে চীনের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে বেইজিংয়ের সাথে ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক বিরোধ চলছে। ফলে ভারত সরকার গভীরভাবে শঙ্কিত যে, ভবিষ্যতে যদি চীনের সাথে ভারতের কোনো বড় ধরণের সীমান্ত যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত দেখা দেয়, তবে সীমান্ত ঘেঁষে থাকা এই বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠী দিল্লির পক্ষে থাকবে নাকি বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রবল অবিশ্বাস রয়েছে।

অথচ লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার বা কেরালা রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের চেয়েও বিপুলসংখ্যক এবং ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম বসবাস করলেও, সেই অঞ্চলগুলো আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা না হওয়ায় তা নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের বিন্দুমাত্র কোনো মাথাব্যথা বা উদ্বেগ নেই।

ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সত্য হলো, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের অনেকেরই পূর্বপুরুষ কয়েক শতাব্দী আগে ব্রিটিশ আমলে বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা অঞ্চল থেকে জীবিকার তাগিদে আসাম ও বাংলায় গিয়ে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছিলেন। দেশভাগের পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ঐতিহাসিক ‘আসাম চুক্তির’ আইনি ধারা অনুযায়ী, ২৪শে মার্চ ১৯৭১ সালের আগে যারা পূর্ব পাকিস্তান থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তারা সবাই আইনগতভাবে ভারতের পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ নাগরিক। ফলে কয়েক প্রজন্ম ধরে ভারতে কর দিয়ে বসবাসকারী এই বাংলাভাষীদের নাগরিকত্ব পুরোপুরি অস্বীকার করা ভারতের নিজস্ব সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনেই অত্যন্ত কঠিন ও জটিল বিষয়।

পুশইনের নেপথ্যে ঢাকাকে দিল্লির বিশেষ বার্তা?

এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, সীমান্ত ও জাতিগত সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরোটা সময় জুড়েই দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কের এক ধরণের তীব্র টানাপোড়েন ও শীতলতা ছিল। তবে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠন করার পর ভারতের সাউথ ব্লক থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও বন্ধুত্বের নানা ইতিবাচক বার্তা আসছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই হঠাৎ করে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের উসকানি ও জোরপূর্বক পুশইন করার তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।”

তিনি ভারতের সামরিক নথির উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানান, ভারতের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত থিংক ট্যাংকের মতে, নয়া দিল্লি মূলত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যকে নিয়ে একটি বিশেষ ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বা ‘মিলিটারি সেফ জোন’ গড়ে তুলতে চায়। আর এই মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবেই সীমান্ত ঘেঁষে থাকা বাংলাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশইন করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক রূপরেখা বা ব্লু-প্রিন্ট আগে থেকেই তৈরি করা রয়েছে। আলতাফ পারভেজের মতে, ভারতের এই আকস্মিক ও জোরপূর্বক পুশইনের পেছনে গভীর দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত সম্ভবত বাংলাদেশকে কোনো বিশেষ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বা বার্তা দিতে চাইছে।

এর নেপথ্যে বর্তমান বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের রাজনীতি নিয়ে দিল্লির নিজস্ব এজেন্ডা, ভারতের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা ‘তিস্তা মেগা প্রজেক্ট’ একতরফাভাবে এগিয়ে নেওয়া অথবা মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার মতো ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলো জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

সীমান্তে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধনের ডাক

এদিকে, সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তন রুখতে এবং পুশইন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী প্রতিটি মুসলিম পরিবারের নাগরিকত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও কঠোরভাবে যাচাই করার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি খোলাখুলি আহ্বান জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এক চাঞ্চল্যকর উদ্ধৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলোতে দীর্ঘদিনের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বা ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের ধারা রুখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, মোদী সরকার এবার সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে আরও বড় ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশের সাথে ভারতের আসাম রাজ্যের প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে উল্লেখ করে কট্টরপন্থী এই বিজেপি নেতা আরও বলেন, “১৯৮৫ সালে ঐতিহাসিক আসাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা বলেছিলাম যে, আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া উচিত এবং সে অনুযায়ী আসাম অংশে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা তখন দূরদর্শিতার অভাবে ভাবিনি যে, শুধু আসাম নয়, বরং বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গেও একইভাবে প্রথম দিন থেকেই নিশ্ছিদ্র কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া দরকার ছিল।” বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ সীমান্তঘেঁষা সব রাজ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দীর্ঘ কয়েক দশক দেরি করা এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখাকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ (Historical Blunder) আখ্যায়িত করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। এই ভুলের সুযোগ নিয়েই ভারতের সীমান্ত রাজ্যগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যা হিন্দুদের চেয়ে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি, যা আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও বড় ধরণের মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category