মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ইরানের যে অর্থ অবমুক্ত করা হবে, তার পুরোটাই একটি ওয়াশিংটন-নিয়ন্ত্রিত ‘এসক্রো’ বা জিম্মি অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে। ইরান এই তহবিল কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে পারবে।
মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন ট্রেজারি যে অর্থ বা নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের সুবিধা দিচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই অর্থ দিয়ে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও ওষুধ কেনা যাবে। এর মধ্যে আমাদের মহান মার্কিন কৃষকদের উৎপাদিত ভুট্টা, গম এবং সয়াবিনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
ট্রাম্প এই পদক্ষেপটিকে একটি ‘মানবিক সহায়তা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটি একটি মানবিক সংকট। দেরি হওয়ার আগেই সাহায্য করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।”
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির নিশ্চয়তা অন্যতম। শান্তি চুক্তির শর্তানুসারে, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সুবিধা পাচ্ছে এবং তাদের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এর আগে সোমবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছিল, আলোচনার সুবিধার্থে তারা ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছে। এর ফলে ইরান আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও সরবরাহ করতে পারবে। তবে সেই অর্থ ইরান সরাসরি নিজের হাতে পাবে না, বরং ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী তা কঠোর পর্যবেক্ষণে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নতুন শর্ত একদিকে ইরানকে চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে রেখেছে, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে বাধ্য করছে। এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি নতুন ও কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তেহরান এই এসক্রো অ্যাকাউন্টের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।