আমরা যখন খুব ছোটো, তখন ক্লাসমেট নিপ্পনকে তার নানা স্কুলে নিয়ে আসতেন—স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে নিতেন।
নানাকে দেখলেই নিপ্পন একগাল হেসে তাঁর কোলে ঝাঁপ দিত। নানাও নাতিকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিতেন।
নিপ্পন এখন বিরাট ডাক্তার। কিন্তু নানার কথা উঠলেই ও সেই ছোট্টবেলার শিশুটি হয়ে যায়। নানার গল্প থামেই না!
ওর কথা শুনতে শুনতে, আমি সেই শিশু নিপ্পনকে দেখতে পাই, যে নানার কাঁধে চেপে বাড়ি ফিরছে। নানা-নাতির মুখভর্তি হাসি।
শিশুদের জন্য দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির উপস্থিতি স্বর্গীয়। কিন্তু এটাও ঠিক, তাঁরা না বুঝে অনেক সময় কিছু ভুল করেন, যা নাতি-নাতনির ক্ষতি করে।
তাই এ পোস্ট।
১) দয়া করে শিশুর বাবা-মা কোনো কিছুতে না বললে আপনি হ্যাঁ বলবেন না। এতে শিশুর মা-বাবার প্রতি অবাধ্যতা বাড়বে। যদি আপনার কোনো বক্তব্য থাকে, বাবা-মাকে আলাদাভাবে বলুন।
২) কখনোই বাবা-মায়ের অনিচ্ছাকে অগ্রাহ্য করে শিশুর হাতে মোবাইল দেবেন না। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা মোবাইলে আসক্ত হয় এ কারণে।
৩) সব সময় বাবা-মায়ের শাসনে বাধা দেবেন না। মাঝে মাঝে শাসনেরও দরকার আছে।
৪) তাদের কাছে বাবা-মাকে ছোটো করবেন না। এতে তারা বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে, যেটি ভবিষ্যতে কাল হবে।
৫) ওদের অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেবেন না। কিছু চাইলেই কিনে দেওয়া, স্বাস্থ্যসম্মত নয় এমন খাবার চাইলে এনে দেওয়া—এগুলো করে মাথায় তুললে পরে নামানো খুব কঠিন হবে।
৬) ওদের হাতে বেদরকারে টাকা দেবেন না। সহজে টাকা পেলে ওরা অর্থের মূল্য বুঝবে না। তাছাড়া, শিশুর হাতে টাকা বিপদও ডেকে আনে।
৭) প্রশ্রয় যেমন বেশি করবেন না, একইভাবে অতিরিক্ত শাসনও করবেন না।
৮) ‘আমরা বাচ্চা মানুষ করি নাই?’—এটা ভেবে নিজেদের আমলের ধ্যানধারণা সব সময় প্রয়োগ করবেন না। যুগ পাল্টে গেছে—অনেক ক্ষেত্রেই আপনাদের যুগের পদ্ধতি অচল।
৯) ওরা বড় ধরনের ভুল করলে বাবা-মায়ের কাছ থেকে গোপন করবেন না। তবে ছোটোখাটো ভুল না বললেও চলে। সেক্ষেত্রে নিজে বুঝিয়ে বলুন।
১০) ভুলেও চব্বিশ ঘণ্টার জন্য ওদের বেবিসিটার হবেন না। যতটুকু সময় দেওয়ার, সেবা দেওয়ার দরকার, তা দিন। একজীবনে নিজের জন্য কষ্ট করেছেন, ছেলেমেয়েদের জন্য করেছেন, আর কত? তাই নিজের বিশ্রাম নিশ্চিত করে তারপর ওদের দেখুন।
#আসুন মায়া ছড়াই