ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সরব বিরোধী জোট। সংসদের ভেতরে-বাইরে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি এবার দাবি আদায়ে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গঠন করা হচ্ছে ১৫ সদস্যের জাতীয় সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি। যেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের পাশাপাশি থাকবেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা। ১৫ সদস্যের কমিটিতে থাকছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের এমপি নাজিবুর রহমান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির, শহিদ জাবের ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
নেতারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলনও কেবল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তারা।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে সংস্কার ইস্যুটা বাস্তবায়ন করার জন্য। পার্লামেন্টে এবং বাইরে আমরা একটা কমিটি গঠন করতেছি, তারা হলো সিম্পোজিয়াম, সেমিনার, ডায়ালগ- বিভিন্ন অংশীজন যারা আছে, তাদের সঙ্গে বসবে, রাজপথে আন্দোলন, সবকিছু পরিচালনা করার জন্য এই কমিটি থাকবে।
১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা দেশ এবং জাতির সামনে আরও বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে যৌক্তিক, তথ্যভিত্তিক আরও কিভাবে গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ তুলে নিয়ে আসা যায় জাতির সামনে উপস্থাপন করা যায়, এটা আগামী দিনে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে।
১১ দলের নেতাদের অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায় নিয়ে টালবাহনা করছে। তাই বৃহত্তর ঐক্য গড়তেই তাদের এই নতুন উদ্যোগ। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এটা স্পষ্ট করতে চাই জনগণকে যে সংশোধন প্রক্রিয়া যেটা যাচ্ছে, সেটা হ্যাঁ ভোট, গণভোটের বাস্তবায়ন নয়। বাস্তবায়ন করতে হলে সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে যেতে হবে। এজন্য আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংস্কার পরিষদ কমিটি বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।
এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রায় ১৫ সদস্যের একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। সেই স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যারা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আছে, যারা দক্ষ আছে, তারা থাকবেন। আর ওভারঅল সবাই শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং পার্লামেন্টের মেম্বাররা থাকবেন।
শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলেও জানান বিরোধী দলের নেতারা।