• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন
Headline
সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত এনআইসিইউ ওভারহিট হয়ে নবজাতক দগ্ধ প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মী পাঠাচ্ছে বোয়েসেল রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষক পাবেন প্রণোদনা, বরাদ্দ প্রায় ৯৬ কোটি টাকা যে কারণে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, জানাল দূতাবাস নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে হবে: শামা ওবায়েদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে ৩২২ কোটি টাকা গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়বে, মোবাইল বিলও দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রাজনৈতিক ইন্ধন নাকি পেটের ক্ষুধা

রিন্টু আনোয়ার / ৪ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ধমনী তৈরি পোশাকশিল্প আজ এক অভূতপূর্ব ও জটিল ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও মিরপুরের বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চলে লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভে স্থবির হয়ে পড়েছে উৎপাদন, অন্যদিকে কারখানা বন্ধের হুমকিতে দিশেহারা মালিকপক্ষ। রাজপথে পুলিশের গাড়িতে আগুন, কারখানা ভাঙচুর এবং পুলিশের সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের যে চিত্র আমরা গত কয়েকদিনে দেখেছি, তা কেবল একটি শিল্প খাতের অস্থিরতা নয়, বরং গোটা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্যই এক ভয়াবহ অশনিসংকেত। শ্রমিকদের দাবি—ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে। আর এই দাবিকে কেন্দ্র করে যখন তিন শতাধিক কারখানা বন্ধের মুখে, তখন স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এই অস্থিরতার মূল কারণ কী? এটি কি নিছকই পেটের ক্ষুধার তাগিদ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সুগভীর রাজনৈতিক ইন্ধন? সর্বোপরি, বৈশ্বিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শিল্পের সক্ষমতা ও শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কীভাবে একটি টেকসই ভারসাম্য আনা সম্ভব? এই বিষয়গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

পরিস্থিতির একেবারে গভীরে দৃষ্টি দিলে প্রথমেই যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো শ্রমিকের জীবনধারণের নির্মম বাস্তবতা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যখন পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন থেকেই বাজারে মূল্যস্ফীতির আগুন জ্বলছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতেই, বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, গত প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় প্রতি মাসেই জ্যামিতিক হারে কমেছে। একজন সাধারণ পোশাকশ্রমিকের দৈনন্দিন জীবনের হিসাব মেলালে দেখা যায়, তার বেতনে প্রতি এক টাকা বৃদ্ধির বিপরীতে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে তিন টাকা। ঢাকা বা এর আশেপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ঘরভাড়া, চাল-ডাল-তেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম, যাতায়াত এবং চিকিৎসা ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় একটি চার সদস্যের পরিবারের টিকে থাকা রীতিমতো জাদুকরী ব্যাপার। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘গ্লোবাল লিভিং ওয়েজ কোয়ালিশন’-এর গবেষণা বলছে, ঢাকায় চারজনের একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য অন্তত ৩০ হাজার ৪৫৯ টাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ শ্রমিকেরা যে ৩০ হাজার টাকা দাবি করছেন, তা কোনো আকাশকুসুম বিলাসিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক গবেষণার সাথে হুবহু মিলে যাওয়া বেঁচে থাকার এক ন্যূনতম গাণিতিক হিসাব। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর ‘পভার্টি অ্যান্ড ফেমিনিন্স’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, বাজারে খাদ্যের অভাব না থাকলেও মানুষের ‘এনটাইটেলমেন্ট’ বা ক্রয়ক্ষমতা ভেঙে পড়লে দুর্ভিক্ষ আসে। আজ আমাদের পোশাকশ্রমিকদের মজুরির ক্রয়ক্ষমতা এতটাই তলানিতে ঠেকেছে যে, মাস শেষে তাদের আলুভর্তা আর ডাল খেয়ে দিন পার করতে হয়, কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। ঘাম শুকানোর আগে মজুরি দেওয়ার যে নৈতিক দীক্ষা আমাদের রয়েছে, সেই মজুরি যদি ঘাম ঝরানো মানুষটির এক মাসের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থানই করতে না পারে, তবে সেই মজুরি কাঠামোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।

তবে মুদ্রার অপর পিঠে রয়েছে কারখানা মালিকদের নিদারুণ বাস্তবতা, যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, শ্রমিক বাঁচলে যেমন শিল্প বাঁচবে, তেমনি শিল্প টিকলে তবেই শ্রমিকের কর্মসংস্থান থাকবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের ক্রয়াদেশ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনেও কারখানাগুলো নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন করতে পারছে না। ব্যাংক ঋণের আকাশচুম্বী সুদহার এবং কাঁচামাল আমদানির বাড়তি ব্যয় মালিকদের মুনাফার মার্জিনকে একেবারে খাদের কিনারায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হলে দেশের ছোট ও মাঝারি আকারের শত শত কারখানা রাতারাতি দেউলিয়া হয়ে যাবে। তখন বেতন বাড়ার বদলে লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন, যা এক ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের জন্ম দেবে। মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌক্তিকভাবেই শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই অরাজকতা চলতে থাকলে আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। আন্তর্জাতিক ক্রেতা বা বায়ারদের দ্বিমুখী নীতিও এক্ষেত্রে বড় একটি বাধা। তারা একদিকে কমপ্লায়েন্স ও মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, অন্যদিকে পোশাকের ন্যায্য মূল্য বা প্রাইস সোর্স বাড়াতে রাজি হয় না। ফলে মালিকেরা চাইলেও সবসময় নিজেদের পকেট থেকে শ্রমিকের বিশাল মজুরি বৃদ্ধির ভার বহন করতে পারেন না।

এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই যুক্ত হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমীকরণ। মিরপুর ও গাজীপুরের সাম্প্রতিক সহিংসতা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং উদ্দেশ্যমূলক কারখানা ভাঙচুরের ধরন দেখে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী এবং সীমান্তের ওপার থেকে একটি মহল ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ডিবির হাতে মিরপুরে গ্রেফতার হওয়া বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ও এই দাবির পালে হাওয়া দিচ্ছে। এটা সত্য যে, পেটের দায়ে রাস্তায় নামা প্রকৃত শ্রমিকেরা কখনোই নিজেদের রুটিরুজির জায়গা—কারখানায় আগুন দেন না। এই আন্দোলনে সুযোগসন্ধানী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ঢুকে পড়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সরকার এরই মধ্যে একটি নিরপেক্ষ ও সর্বদলীয় নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, যেখানে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এরপরও কেন শ্রমিকেরা ভাঙচুর চালাচ্ছেন, সেটিই রাজনৈতিক উসকানির তত্ত্বকে জোরালো করে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে পেটের ক্ষুধা মেটানো যায় না। রাজনৈতিক ইন্ধন তখনই সফল হয়, যখন সেখানে অসন্তোষের বারুদ আগে থেকেই জমা থাকে। মজুরি বৈষম্য ও জীবনযাত্রার যাঁতাকলই হলো সেই বারুদ, আর সুযোগসন্ধানীরা কেবল সেখানে দেশলাইয়ের কাঠিটি ছুড়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির এই চরম ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, কেবল আবেগ বা রাজনৈতিক দোষারোপ দিয়ে এই খাতের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। সামনে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর পোশাক খাতে আর সরকারিভাবে কোনো নগদ আর্থিক প্রণোদনা দিতে পারবে না। তখন সস্তা শ্রম বিক্রি করে বিশ্ববাজারে টিকে থাকার দিন চিরতরে ফুরিয়ে যাবে। আমাদের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, তারা সস্তা শ্রমের বদলে প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চ মূল্য সংযোজন এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের পণ্য বাণিজ্যের আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে। অথচ আমরা এখনও সস্তা শ্রমিকের ওপর ভর করে টিকে থাকার অবাস্তব স্বপ্ন দেখছি। অর্থনীতিবিদ জর্জ আকারলফ ও জোসেফ স্টিগলিৎসের ‘দক্ষতা মজুরি’ (এফিসিয়েন্সি ওয়েজ) তত্ত্ব আমাদের শেখায় যে, শ্রমিককে ভালো মজুরি দিলে তার উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং কারখানার সার্বিক অপচয় কমে। তাই মালিকদের এখন সস্তা শ্রমের মোহ ত্যাগ করে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনবল তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

এই বহুমুখী সংকট সমাধানে আমার সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিগত পরামর্শ রয়েছে, যা সরকার, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক—এই তিন পক্ষকেই সমানভাবে অনুধাবন করতে হবে। প্রথমত, নবগঠিত মজুরি বোর্ডকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে এবং বাজারের প্রকৃত মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি যৌক্তিক মজুরি কাঠামো ঘোষণা করতে হবে। এটি ৩০ হাজার টাকা না হলেও এমন একটি সম্মানজনক অঙ্ক হতে হবে, যা দিয়ে একজন শ্রমিক অন্তত খেয়েপরে বাঁচতে পারেন। দ্বিতীয়ত, মালিকদের মনে রাখতে হবে যে, কেবল সরকারের প্রণোদনার ওপর নির্ভর করে ব্যবসা করা যায় না। মালিকদের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ (প্রফিট শেয়ারিং) শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যা শ্রমিককে কারখানার প্রতি দায়বদ্ধ করবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যাতে তারা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পরিশোধে বাধ্য হয়।

তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শটি হলো রাষ্ট্র বা সরকারের ভূমিকা নিয়ে। অমর্ত্য সেনের ভাষায় যাকে ‘পাবলিক অ্যাকশন’ বলা হয়, সরকারকে এখন সেই পথেই হাঁটতে হবে। সব দায়ভার কেবল মালিকের ঘাড়ে চাপালে শিল্প বাঁচবে না। মজুরি হিসেবে মালিক হয়তো ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা দিতে পারবেন, কিন্তু বাকি ঘাটতি পূরণে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। পোশাকশ্রমিকদের জন্য সরকার বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে পারে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য নিত্যপণ্য পাবেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডরমিটরি বা শ্রমিক কলোনি নির্মাণ করতে হবে, যাতে তাদের আয়ের একটি বিশাল অংশ অস্বাভাবিক বাড়িভাড়ার পেছনে চলে না যায়। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের জীবনযাত্রার পরোক্ষ ব্যয় যখন সরকার নিজ কাঁধে তুলে নেবে, তখন কারখানার ওপর মজুরি বৃদ্ধির সরাসরি চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

পরিশেষে বলা যায়, যে মানুষগুলোর ঘামের বিনিময়ে দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি অর্জিত হয় এবং যাদের শ্রমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ টিকে থাকে, তাদের ঋণগ্রস্ত ও ক্ষুধার্ত রেখে কোনো দেশের অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। পোশাক কারখানায় ভাঙচুর বা সহিংসতা যেমন কঠোর হস্তে দমন করতে হবে, তেমনি রাজনৈতিক ইন্ধনের নামে শ্রমিকের পেটের দাবিকেনজায়গায় অবদমিত করার চেষ্টাও আত্মঘাতী হবে। শিল্পমালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সরকারকে আজ এক টেবিলে বসতে হবে গভীর সংবেদনশীলতা ও দূরদর্শিতা নিয়ে। সস্তা শ্রমের দিন শেষ—এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে উন্নত প্রযুক্তি, বাজার বহুমুখীকরণ এবং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল আমরা আমাদের পোশাকশিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব। তা না হলে, যে শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে এতকাল বাঁচিয়ে রেখেছে, সেই শিল্পের পতনই আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category