• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সরকারের ভর্তুকির চাপ

Reporter Name / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে জ্বালানি এবং খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের ওপর ভর্তুকির এক বিশাল চাপ আসতে যাচ্ছে বলে জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হিসাব ও প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট ভর্তুকির পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য আমদানির ক্রমবর্ধমান বিশাল ব্যয় সামাল দিতেই মূলত এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই দাবি করেছে সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় দাবিটি এসেছে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে, যারা পুরো অর্থবছরের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আগামী অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রাথমিক জ্বালানির ব্যয় মেটাতে আরও ২৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই তিনটি মন্ত্রণালয় তাদের অতিরিক্ত অর্থ দাবির পেছনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ তুলে ধরেছে। তারা জানিয়েছে যে, বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন, দেশে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প তরল জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াই এই বিপুল খরচের মূল কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী সার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার কারণে সার আমদানি এবং পরিবহন খরচ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, খাদ্য মন্ত্রণালয় তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাল ও ধান সংগ্রহে বাড়তি খরচ, আন্তর্জাতিক শিপমেন্ট বা পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরকারি খাদ্য সুবিধাভোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার কারণে তাদেরও অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

অর্থ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী চলমান এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণেই দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভর্তুকির চাহিদা এত বেশি বেড়ে গেছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, মন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে চাওয়া এই বিপুল অঙ্কের চাহিদাই চূড়ান্ত নয় এবং সরকার নিজস্ব হিসাব-নিকাশ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার বর্তমানে বিদ্যুতের খুচরা মূল্যে গ্রাহকদের ভর্তুকি দিয়ে থাকে এবং চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এই বিদ্যুৎ খাতের জন্যই ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে এই ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, যদিও চূড়ান্ত অঙ্ক এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রধান জ্বালানি যেমন গ্যাস, ফার্নেস অয়েল এবং কয়লার দাম বিশ্ববাজারে অনেক বেড়েছে এবং এর সাথে টাকার মান কমে যাওয়ায় ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকট হয়েছে।

তবে বিদ্যুতের দাম যদি পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হয়, তবে এই ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকালই জুন মাসের বিলিং চক্র থেকে কার্যকর হওয়ার শর্তে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম ১৬.৬৮ শতাংশ বা ইউনিট প্রতি ১.৫২ টাকা বৃদ্ধি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির যে দাম বেড়ে গেছে, তা সমন্বয় করতে সরকার এরই মধ্যে দুবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) মূলত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে একটি নির্দিষ্ট ও চুক্তিকৃত দামে বিদ্যুৎ কিনে তা ছয়টি বিতরণ কোম্পানির কাছে সরকার নির্ধারিত পাইকারি মূল্যে বিক্রি করে থাকে। কেনা দামের চেয়ে বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় যে বিশাল আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়, সেটিই মূলত সরকারি ভর্তুকি দিয়ে মেটানো হয়ে থাকে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যদি ভবিষ্যতে কমে আসে এবং এলএনজি, সার, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বিশ্ববাজারে হ্রাস পায়, তবে ভর্তুকির এই চাপ অনেকটাই কমে আসবে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছে তার পুরোটাই যে বরাদ্দ দেওয়া হবে এমনটি নয়; বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে যা পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা যেতে পারে। আসন্ন বাজেটে সরকার ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং নগদ ঋণ বাবদ মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার একটি পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভর্তুকি খাতেই ৮০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে।

এছাড়া কৃষি, রপ্তানি, পাটজাত পণ্য এবং রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনা হিসেবে ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং নগদ ঋণ হিসেবে ১২ হাজার কোটি টাকা রাখা হতে পারে। তুলনামূলকভাবে, আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ বিভাগ গত ২৪ মে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম ২০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ডলারের বিপরীতে টাকার মারাত্মক দরপতন হয়েছে এবং গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে তরল জ্বালানির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের দাম বিইআরসি কর্তৃক লিটার প্রতি ১১৩.৫৪ টাকা নির্ধারণ করার ফলে জ্বালানি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে আগামী ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ৫৯,১৪৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ হিসাব কষেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে সরকারের বকেয়া ভর্তুকির বিশাল পাহাড় সময়মতো পর্যাপ্ত কয়লা ও জ্বালানি আমদানির পথকে কঠিন করে তুলছে। বিপিডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার বা আইপিপিগুলোর জন্য ৪৫,০৪০ কোটি টাকা, মাতারবাড়িভিত্তিক কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের জন্য ৪,৩০৭ কোটি টাকা, রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২.৫ কোটি টাকা, নেপাল ও ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের জন্য ১,৯৭৪ কোটি টাকা এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ৭,৮২১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। গত ৭ মে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক বৈঠকে যৌথ উদ্যোগের বিদ্যুৎকেন্দ্র, আদানি পাওয়ার এবং ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎকে ভর্তুকি কাঠামোর আওতায় আনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অধীনে, আগামী ২০২৫ সালের ৬ মার্চ থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিআর পাওয়ারজেন লিমিটেড, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগের আরপিসিএল-নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেড এবং ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে আদানি পাওয়ারের অমিমাংসিত দাবি ও ভারত-নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎকে সরাসরি ভর্তুকির আওতায় আনা হবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, পেট্রোবাংলা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্যই ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা উল্লেখ করেছে যে, প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন কতটা হবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে মার্কিন-ইরান সংঘাতের গতিপ্রকৃতির ওপর। হরমুজ প্রণালী যদি খোলা থাকে এবং কাতার ও ওমানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি নিরবচ্ছিন্ন থাকে, পাশাপাশি স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কমে যায়, তবে ভর্তুকির প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেতে পারে। জ্বালানি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ২০ ডলার ধরে এই প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পুরো অর্থবছরে গ্যাসের মোট ভর্তুকি প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। চলতি বাজেটে গ্যাস ভর্তুকির জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে তা ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছে এবং অর্থ বিভাগের তথ্যমতে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১০,৬০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ মে মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানির সুবিধার্থে আরও ৪,১০০ কোটি টাকা চেয়েছে এবং পেট্রোবাংলার ধারণা অনুযায়ী শুধুমাত্র জুন মাসের জন্যই প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের সার, বীজ এবং সেচ কর্মসূচির জন্য ১৮ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে, যেখানে চলতি অর্থবছরে তাদের বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয় খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিতরণের জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। সরকার এছাড়া রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং পাটজাত পণ্যের প্রণোদনার জন্য অতিরিক্ত ১৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দেরও পরিকল্পনা করছে। এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি বৃদ্ধি নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই ভর্তুকি বাড়ার একমাত্র কারণ নয়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরে অদক্ষতা, দুর্নীতি, সম্পদের অপচয় এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ভুগছে; আর্থিকভাবে টেকসই হওয়ার বদলে এটি এখনো পুরোপুরি ভর্তুকিনির্ভর রয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, এই খাতের শাসনব্যবস্থা ও দক্ষতার কোনো উন্নতি না হওয়ায় ভর্তুকি কমার বদলে উল্টো বাড়ছে। দেশীয় উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি সরকারকে অদক্ষতা ও দুর্নীতি মোকাবিলার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম হওয়ায় এত বিশাল অঙ্কের ভর্তুকির অর্থ কীভাবে আসবে তা নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও তা অর্জন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে; আর বাজেট অর্থায়নের জন্য সরকার যদি ব্যাংক ঋণের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভর করে, তবে তা দেশে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে এবং বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category