• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: বাংলাদেশের জন্য সুযোগ নাকি বিপদ? হাওরের বুক চিরে কৃষকের বোবাকান্না: অসময়ের ঢলে তলিয়ে গেল হাজার কোটি টাকার সোনালি স্বপ্ন ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদে দেশের অর্থনীতি: ভুল নীতি ও অস্বচ্ছ চুক্তির দায় কার? বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু: কবে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে ৪৮ দেশ? ড. ইউনূস সরকারের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট ফের বিয়ের পিঁড়িতে ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা রোগী বাড়ছে, চিকিৎসক নেই: জনবল ও ওষুধ সংকটে ধুঁকছে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট রুগ্‌ণ শিল্পে প্রাণ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মেগা পরিকল্পনা চ্যানেল ওয়ানের প্রত্যাবর্তন ও প্রাসঙ্গিকতার সংকট: দর্শক কি আর লোগোয় বিশ্বাস করে? কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মসলার বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা: পর্যাপ্ত সরবরাহ সত্ত্বেও হু হু করে বাড়ছে দাম

উৎকণ্ঠার প্রহর শেষ: আজই নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—তৃণমূলের দুর্গ রক্ষা নাকি বিজেপির নতুন সূর্যোদয়?

Reporter Name / ৭ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ মোট পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আজ সোমবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। গোটা ভারতের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নজর এখন মূলত পশ্চিমবঙ্গের দিকে নিবদ্ধ। ২৯৪ আসনবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা শেষে আজ নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের ক্ষমতার নতুন সমীকরণ। চতুর্থবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস কি আবারও নবান্নের দখল নিয়ে তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে, নাকি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে ইতিহাস গড়বে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)? লাখ টাকার এই প্রশ্নের উত্তর আজ দুপুরের মধ্যেই সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ম্যাজিক ফিগার ও আত্মবিশ্বাসের লড়াই

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের জন্য ‘ম্যাজিক ফিগার’ বা প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আসন সংখ্যা হলো ১৪৭। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি—উভয় দলই জয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাব পোষণ করছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন, তার দল এবার ২২৫টিরও বেশি আসন পেয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত বলে হুংকার দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দলীয়ভাবে তারা হিসাব কষছেন যে, অন্তত ১৬০ থেকে ১৭০টি আসন তাদের ঝুলিতে আসতে পারে। দুই দলের এই বিপরীতমুখী দাবি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্ট্রংরুম পাহারায় রাত জাগা ও এক্সিট পোল বিতর্ক

নির্বাচন ও ভোট গণনাকে ঘিরে গোটা রাজ্য জুড়ে এখন চরম উত্তেজনা ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভোট গণনায় কোনো ধরনের কারচুপি বা জালিয়াতি ঠেকাতে এবং ইভিএমের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষই স্ট্রংরুমের বাইরে নিজ নিজ দলের কর্মীদের কড়া পাহারায় রেখেছে। রাত জেগে দলের নেতা-কর্মীরা পালাক্রমে এই পাহারা দিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক অবিশ্বাসের চিত্রই তুলে ধরে।

এর পাশাপাশি ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ বা এক্সিট পোল নিয়েও চলছে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সুস্পষ্ট অভিযোগ, এসব বুথফেরত সমীক্ষায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপিকে এগিয়ে দেখিয়ে বাজারে একটি কৃত্রিম প্রভাব ও মনস্তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের মতো এবারও তৃণমূলই ভোটের মাঠে এগিয়ে থাকবে এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে দাপটের সঙ্গে ক্ষমতায় ফিরবে।

মমতা বনাম শুভেন্দু: নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ লড়াই

এবারের নির্বাচনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো হেভিওয়েট প্রার্থীদের মর্যাদার লড়াই। বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপির অন্যতম শীর্ষ মুখ শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, খোদ কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের অবস্থান এবার অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এখানকার বেশির ভাগ ওয়ার্ডেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—এই দুটি হাই-প্রোফাইল আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রামেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছিলেন। অন্যদিকে ভবানীপুর দীর্ঘকাল ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি বা দুর্গ হিসেবে পরিচিত, যেখান থেকে তিনি বরাবরই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে আসছেন। এবার সেই ব্যবধান তৃণমূল ধরে রাখতে পারবে নাকি তা কমে যাবে, কিংবা শুভেন্দু অধিকারী নতুন কোনো চমক দেখাবেন কি না—তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আজকের গণনার ফলাফলের ওপর।

অন্যান্য রাজ্যের ফলাফল ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ ভারতের আরও কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে। যে রাজ্যগুলোর ফলের দিকে আজ নজর থাকবে, সেগুলো হলো:

  • তামিলনাড়ু: ২৩৪ আসন

  • কেরালা: ১৪০ আসন

  • আসাম: ১২৬ আসন

  • পুদুচেরি (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল): ৩৩ আসন

এই রাজ্যগুলোর ফলাফলও ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে গণমাধ্যমের সব আলো আজ মূলত পশ্চিমবঙ্গের দিকেই। কারণ, এই রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল কেবল আঞ্চলিক রাজনীতি নয়, বরং ভারতের আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, ব্যালট বাক্সের রায় কার পক্ষে যায়—তৃণমূলের হ্যাটট্রিকের পর ‘চার ছক্কা’ নাকি বিজেপির নতুন সূচনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category