জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা দুই ছাত্রনেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলমের ভূমিকা নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তাঁর দাবি, এই দুই নেতা কখনোই সরকারের পতন বা গণ-অভ্যুত্থান চাননি; বরং তাঁরা চেয়েছিলেন কোটা সংস্কারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকুক।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে রাশেদ খান এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
আসিফ মাহমুদের বইয়ের সূত্র ও বঙ্গভবন যাত্রা
রাশেদ খান তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের লেখা একটি বইয়ের রেফারেন্স টেনে আনেন। তিনি ওই বইয়ের তথ্য উল্লেখ করে জানান, আন্দোলনের একটি ক্রিটিক্যাল সময়ে হাসনাত ও সারজিস সেনাবাহিনীর গাড়িতে চড়ে বঙ্গভবনের দিকে যাচ্ছিলেন।
রাশেদ খান বলেন,
“সেসময় আমরা তাদেরকে স্পষ্ট বলেছিলাম, তোমরা যদি গাড়ি থেকে নেমে আমাদের কাছে না আসো, তাহলে তোমাদেরকে ‘জাতীয় বেইমান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে।”
সংলাপে অংশগ্রহণ ও বর্তমান ‘রাজনৈতিক কৌশল’
আন্দোলনের চরম পর্যায়ে গত ১৯ জুলাই তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে হাসনাত ও সারজিসের সংলাপে বসার ঘটনাটিকেও সামনে আনেন রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, সেদিনের ওই আপসকামী অবস্থান আড়াল করতেই বর্তমানে তাঁরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে এতটা সোচ্চার হয়েছেন। রাশেদ খানের মতে, এই দুই নেতার বর্তমান অতি-সক্রিয়তা মূলত এক ধরনের ‘রাজনৈতিক কৌশল’ বা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা মাত্র।
এখনো নিশ্চুপ দুই নেতা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দুই রূপকারের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি অভিযোগ ওঠার পর এখন পর্যন্ত হাসনাত আব্দুল্লাহ বা সারজিস আলমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা জবাব পাওয়া যায়নি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে মিত্র বা সমমনা পক্ষগুলোর মধ্যকার এই ধরনের প্রকাশ্য সমালোচনা ও অভিযোগ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে সম্পূর্ণ নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে। সামনে এই বিতর্ক আরও ডালপালা মেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।