কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের পর এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্তে পুশইনের তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এই সীমান্ত দিয়ে নৌকাযোগে এক নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কঠোর ও তাৎক্ষণিক বাধার মুখে ওই নারীকে ভারতের অভ্যন্তরেই ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফের জওয়ানেরা।
সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত গভীর রাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর রোকনপুর বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২২৫/৩-আর এর পাশ দিয়ে এই অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা চালানো হয়।
বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর আওতাধীন ‘আর কে ওয়াদা’ ক্যাম্পের সশস্ত্র সদস্যরা এক স্থানীয় ভারতীয় মাঝির সহায়তা নেন। তারা নৌকায় করে এক অজ্ঞাতনামা নারীকে তুলে নদী পার করে রোকনপুর সীমান্তের শূন্য রেখা বরাবর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইন করার চেষ্টা চালান।
অন্ধকারের মধ্যে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে বিএসএফের এই সন্দেহজনক নড়াচড়া ও নৌকার উপস্থিতি টের পেয়ে রোকনপুর বিওপির বিজিবি টহল দলের সদস্যরা দ্রুত পজিশন নেন এবং কড়া প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিজিবির মারমুখী ও অনড় অবস্থান দেখে বিএসএফ জওয়ানেরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। পরে বিজিবির কড়া পাহারার মুখে ওই নারীকে নিয়ে তারা পুনরায় ভারতের ভেতরে চলে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “বিজিবি টহল দলের অত্যন্ত দক্ষ, পেশাদার ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে বিএসএফের এই পুশইন প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে পড়ার পর উক্ত মহিলা সীমান্তের শূন্য লাইন (নো ম্যানস ল্যান্ড) বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন এবং পরে বিএসএফ তাঁকে সরিয়ে নেয়।” তিনি আরও জানান, বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তবাসী জানান, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের এই পুশইন তৎপরতা হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোকনপুরের এই একই পয়েন্ট দিয়ে মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ গত ১৩ই জুন ভোরে একযোগে ১৫ জন মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সেবারও ভোরবেলার আলো ফোটার আগে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিএসএফের সেই পুশব্যাক বা পুশইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিয়েছিল। বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে সেবারও ওই ১৫ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল বিএসএফ।
সীমান্তজুড়ে ভারতের এই একের পর এক উসকানিমূলক আচরণের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখছে।