• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
Headline
নিষিদ্ধ দলের ঝটিকা মিছিলে কঠোর অবস্থানে সরকার: রাজনৈতিক গুঞ্জনে উত্তাল ডিসেম্বর ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন: ১২ বছরের আয়ুষ্কাল ও ২৫ কিমি গতিসীমা নির্ধারণ শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা: জাপানের সব শর্ত মেনে নিল বাংলাদেশ ৯ হাজার ৫০০ টন চাল বিতরণ স্থগিত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর: ভারত থেকে আমদানিকৃত চালে ক্যানসারের উপাদান ব্যাংক খাতে আস্থার নতুন মাপকাঠি: ৫০ হাজার কোটির বেশি আমানত নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে আট বেসরকারি ব্যাংক বাই দ্য রিভারস অব ব্যাবিলন – ৬ ভারতে মুসলিম-দলিতদের প্রতিনিয়ত নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে: নেহা গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের প্রাক্কালে বিহারের নতুন দাবি ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে ট্রানজিট বন্ধের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের ফলাফল সন্তোষজনক নয় এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ

বাই দ্য রিভারস অব ব্যাবিলন – ৬

বাদল সৈয়দ / ৪ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

দেশহারা, ঘুমানোর সময় মায়ের মধুর কণ্ঠে ছেলে ভুলানো ছড়া যারা কোনোদিন শুনেনি, সেসব বাচ্চারা অতি পরিচিত এ গানের পরের লাইন জানে না। তাই আমিই হেঁড়ে গলায় চিৎকার করে উঠলাম “ইয়া ইয়া ও।”
বাচ্চাগুলো কী বুঝলো কে জানে, তারা লাফাতে লাফাতে গলা ফাটালো, ‘ও ও ও।”
আহা! জীবনের সকল আনন্দ বঞ্চিত শিশুর দল!
পৃথিবীর সকল যুদ্ধ, জাতি নিধনের প্রথম শিকার হয় নারী আর শিশু। অথচ এসবে তাদের কোনো ভূমিকাই থাকে না।
মজার ব্যাপার হলো বাচ্চা কাঁধে নাচতে নাচতেই পলিন ব্যাগ থেকে লিপস্টিক বের করে ঠোঁটে বুলাচ্ছে। আশ্চর্য!
হঠাৎ লিপস্টিকটি হড়কে গিয়ে হাত থেকে ছুটে গেল, কিন্তু তা মাটিতে পড়ার আগেই আমি দ্রুত হাত বাড়িয়ে তা লুফে নিলাম। তারপর তা ইচ্ছে করে কয়েকবার উপরে ছুড়ে দিয়ে আবার খপ করে ক্যাচ ধরে তা পলিনকে ফেরত দিলাম।
সে হাসতে হাসতে বলল, ‘গুড গ্রাব।’ তারপর আমার কাছ থেকে হালকা স্ট্রবেরি রঙের জিনিসটি আবার ঠোঁটে বুলাতে বুলাতে বলল, “ভাগ্যিস মাটিতে পড়েনি, তাহলে বরবাদ হয়ে যেত, তাই বলে ভেবো না আমার ঠোঁটের রং মুছার সুযোগ তোমাকে দেওয়া হবে। দ্যাট ইজ ওনলি ফর জেফরি। হাহাহা।”
আমার মনে হলো হাসলে তার গালে যে টোল পড়ে তার বিনিময়ে একটি সমুদ্রের অধিকার অনায়াসে ছেড়ে দেওয়া যায়।
প্রায় ঘণ্টা দুয়েক এসব করার পর পলিন বলল, এবার আমি এ ক্যাম্পের যারা ওদের মুরুব্বি তাঁদের সাথে কথা বলব। তবে অবশ্যই কয়েকজন মহিলা থাকতে হবে।
এভাবে পরপর তিনদিন কেটে গেলো। এর মধ্যে আরো তিনটি ক্যাম্পও আমাদের ঘুরে দেখা হলো। বাকি রইলো আরেকটি। প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পের একই অবস্থা। লক্ষ লক্ষ দেশান্তরীর নির্লিপ্ত চোখ। মানুষের নির্মমতায় এদের চোখের ভাষা হারিয়ে গেছে। পলিন সব জায়গায় যাদের সাথে দেখা হয়েছে তাদের সবার সাথে কথা বলেছে। নেতাদের সাথে একা মিটিং করেছে। বাচ্চাদের কাঁধে নিয়ে ‘ওল্ড ম্যাকডনাল্ড হ্যাড আ ফার্ম, ইয়া ইয়া ও’ গেয়ে আনন্দ করেছে। আবার ফিরে আসার সময় গাড়িতে দেখেছি তার তীব্র বিষণ্ন চোখ।
সে চোখে বঙ্গোপসাগরের রুদ্র ঝড় খেলা করছে। যে ঝড় গ্রামের সবচে বড়ো বটগাছটিকেও উপড়ে ফেলতে পারে। মনে হচ্ছে, ক্যাম্পের মানুষগুলোকে যারা আশ্রয়হীন করেছে তাদের সে উম্মত্ত ক্রোধে ভাসিয়ে নেবে। এসময় সে কোনো কথা বলেনি, মাঝে মাঝে অন্যদিকে তাকিয়ে কান্না লুকিয়েছে। শুধু একদিন মৃদু স্বরে বললো, আই উইশ আই কিল দেম, বার্মিজ বাস্টার্ডস—– ” তারপর আবার চুপ।
প্রতিদিন তার এ বিষণ্ণতা কাটতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। প্রথম দিনের সেই বুনো উদ্দাম ভাব কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।। এসেই রুমে ঢুকে গেছে। বের হয়েছে সন্ধ্যায়। শুধু এসময় সাঁতার কাটার সময় তার মধ্যে কিছুটা প্রাণ ফিরে এসেছে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনেই দেখলাম মেয়েটি ভয়াবহ অ্যালকোহলিক। সাথে এনেছে প্রায় আট দশটি মদের বোতল। সবগুলোই ‘রয়েল ব্লু’ হুইস্কি। অভিজ্ঞতা থেকে জানি এগুলোর এক বোতলের দাম দিয়ে আমাদের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রায় একমাসের বাজেট হয়ে যায়। ওর সবকিছুর মধ্যে এটা আমার ভালো লাগে না। তবে মেয়েটা মাতাল তেমন হয় না। শুধু মাঝে মাঝে খিল খিল করে হাসে, গান গায়। তার প্রিয় গান হচ্ছে ‘বনি এম’ এর ‘বাই দ্য রিভারস অফ ব্যাবিলন’। প্রায় মৃদু স্বরে গায় “বাই দ্য রিভারস অফ ব্যাবিলন, দেয়ার উই স্যাট ডাউন, ইয়ে ইয়া উই ওয়েপ্ট হোয়েন উই রিমেমবার জায়ন।”
ওর গলায় কাজ আছে, যখন ‘ওয়েপ্ট হোয়েন উই রিমেমবার জায়ন ” লাইনটা গায় তখন মনে হয় ভেতর থেকে কান্না ছিটকে আসছে। কিছুটা মূল সুর থেকে ভিন্ন। তার কণ্ঠে বেদনার ভাব অনেক বেশি প্রবল। আমার মনে হয় মাত্র মাইলখানেকের হাঁটা দূরত্বে লক্ষ লক্ষ দেশান্তরী রোহিঙ্গার বেদনা বুকে ধারণ করে গাওয়ার জন্য এরচে উপযুক্ত গান আর হয় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category