• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
Headline
বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা, ওপারে পাচারের শিকার নারীরা পায়ের নিচে পৃথিবী বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ধারাবাহিক লোকসান: ঋণ ৬০ হাজার কোটি, সংকটে পাওয়ার গ্রিড সুপার এল নিনোর ছায়া ও জলবায়ুর খামখেয়ালিপনা: চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ নাইজেরিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব: ক্লাস চলাকালে বহু শিক্ষার্থী অপহরণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ইরানের তীব্র ক্ষোভ, বিশ্ববাসীকে ‘কঠোর বার্তা’ তেহরানের ট্রাম্প ফিরতেই বেইজিং যাচ্ছেন পুতিন: দুই পরাশক্তির বৈঠকে নজর বিশ্ব মহলের নগরের দায়িত্ব পেলে নাগরিক সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবো: সাদিক কায়েম আস্থার চরম সংকটে দেশের আর্থিক খাত: ৬৬% ব্যাংকই দুর্বল, আসল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা পাকিস্তানের, পাঁচ নতুনের অভিষেক

বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা, ওপারে পাচারের শিকার নারীরা

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক / ১ Time View
Update : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

ভোররাত চারটা। চারদিকের কুয়াশা আর অন্ধকার তখনো পুরোপুরি কাটেনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনের শূন্য সড়ক ধরে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দ্রুত নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। রিকশার একমাত্র যাত্রী চল্লিশ বছর বয়সী শিল্পী বেগম। তাঁর চোখে-মুখে চরম উদ্বেগ এবং শক্ত করে চেপে ধরা ব্যাগের ভেতরে রয়েছে শাশুড়ির জরুরি চিকিৎসার জন্য জোগাড় করা ২৫ হাজার টাকা। কয়েক মিনিট আগেই হাসপাতাল থেকে তাঁর স্বামী ফোন করে জানিয়েছেন, মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক, দ্রুত টাকা নিয়ে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু হাসপাতালের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আগেই আচমকা দুটি মোটরসাইকেলে করে এসে তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায় ছয়জন সশস্ত্র যুবক। মুহূর্তেই ভোরের অন্ধকারে ঝিলিক দিয়ে ওঠে ধারালো রামদা ও সুইচ গিয়ার চাকু।

টাকার ব্যাগটি বাঁচাতে শিল্পী বেগম সামান্য বাধা দিতেই নৃশংস ছিনতাইকারীরা তাঁর পেট ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ বসিয়ে দেয়। রক্তাক্ত শিল্পী বেগম যখন রিকশার মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন, ততক্ষণে টাকা আর মোবাইল নিয়ে উধাও হয়ে গেছে সশস্ত্র যুবকেরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই বিষাদময় ঘটনাটি কেবল শিল্পী বেগমের একার নয়; ২০২৬ সালের এই মে মাসে এসে ঢাকার দুই কোটি বাসিন্দার জন্য এটি নিত্যদিনের এক আতঙ্কের নাম।

পরিসংখ্যানে ভয়ের চিত্র: চার মাসে ৭৮ হত্যাকাণ্ড

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে শুধু যে ছিনতাইয়ের ঘটনা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে তা নয়, বরং চুরি, ডাকাতি ও গ্যাং কালচারের জেরে খুনের ঘটনাও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত চার মাসেই রাজধানীতে অন্তত ৭৮ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

ডিএমপির তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি মাসে ছিনতাই ও দস্যুতার মামলা হয়েছে ২৯টি, ফেব্রুয়ারিতে ২২টি, মার্চে ২৫টি এবং এপ্রিলে ২৫টি। অর্থাৎ প্রথম চার মাসে অফিশিয়ালি ১০১টি ছিনতাইয়ের মামলা নথিবদ্ধ হয়েছে। তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত অপরাধের চিত্র পুলিশের এই খাতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। কারণ, ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই পুলিশের হয়রানি ও ঝামেলার ভয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে চান না।

মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি ও শীতল আচরণ

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতার প্রমাণ মেলে শিল্পী বেগমের ঘটনার পরই। তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী আবদুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এত বড় নৃশংস ঘটনার পর তিনি যখন শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করতে যান, পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের অদ্ভুত দাবি—ছিনতাইকারীদের নাম-ঠিকানা না দিতে পারলে মামলা নেওয়া যাবে না! শেষমেশ একটি সাধারণ লিখিত অভিযোগ (জিডি) রেখেই তাঁকে বিদায় দেওয়া হয়।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলানগর থানার এসআই জাহিদ জানান, তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করছেন, কিন্তু ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাননি। প্রশ্ন উঠেছে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভিআইপি এলাকায় যদি সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকে, কিংবা পুলিশ যদি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি করে, তবে অপরাধীরা বেপরোয়া হবে না কেন?

অলিগলিতে কিশোর গ্যাং ও ওল্ড কাঁচাবাজারে গুলি

বর্তমানে ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী ও আদাবর এলাকাগুলো অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গত ১ মে রাতে মালিবাগ রেলগেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে তিন পোশাক শ্রমিক করিমন, নবী ও রিফাতকে সুইচ গিয়ার দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এর আগের দিন ভোরে শাহবাগ এলাকায় জামাল উদ্দিন ও সামছুন্নাহার নামের এক প্রবীণ দম্পতিকে কুপিয়ে তাঁদের সর্বস্ব কেড়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এমনকি যাত্রাবাড়ীর কাজলায় যানজটে আটকে থাকা গাড়ির চালককে ছুরিকাঘাত করতেও দ্বিধা করছে না তারা।

ছিনতাইয়ের পাশাপাশি রাজধানীতে নতুন করে শুরু হয়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও গোলাগুলি। গত ৭ মে রাতে মহাখালীর পুরনো কাঁচাবাজারের সামনে মোটরসাইকেলে আসা একদল সন্ত্রাসী কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে রফিকুল ইসলাম নামের এক আউটসোর্সিং কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হন। একই দিন কদমতলীর ঢাকা ম্যাচ কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে এক কিশোরসহ চারজন গুরুতর আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব গোলাগুলির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জামিনে মুক্তি ও ‘রক্ত চোষা জনি গ্রুপ’

পুলিশের দাবি, তারা বসে নেই। গত ১ থেকে ৭ মে—এই এক সপ্তাহেই ডিএমপি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে অন্তত ২০০ জনই পেশাদার ছিনতাইকারী। আর গত ছয় মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১,১০০ জনেরও বেশি ছিনতাইকারীকে। কিন্তু এত গ্রেপ্তারের পরও কেন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না?

এর উত্তর মেলে গতকাল শুক্রবার আদাবর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কিশোর গ্যাং ‘রক্ত চোষা জনি গ্রুপ’-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ‘পাংখা রুবেল’-এর প্রোফাইল দেখলে। রুবেলের বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৯টি মামলা রয়েছে। আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, একে এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই সে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে বর্তমানে তিন ধরনের ছিনতাইকারী সক্রিয়:

১. পেশাদার চক্র: যারা প্রাইভেট কার বা অটোরিকশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট স্পটে ওত পেতে থাকে।

২. মাদকাসক্ত কিশোর: যারা স্রেফ মাদকের টাকা জোগাতে পথচারীদের ব্যাগ বা ফোন টান দিয়ে দৌড়ে পালায়।

৩. বখে যাওয়া উচ্চবিত্ত বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র: যারা মূলত ‘অ্যাডভেঞ্চার’ ও শখের বশে দামি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে ছিনতাই করে।

মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের মতে, শুধু পুলিশি অ্যাকশন দিয়ে এটি বন্ধ করা যাবে না। বেকারত্ব দূরীকরণ, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা অসম্ভব।


সীমান্ত পেরিয়ে মুম্বাইয়ের অন্ধকূপ: ভালো কাজের প্রলোভনে নারী পাচার

ঢাকার অভ্যন্তরে যখন এই আইন-শৃঙ্খলার সংকট, তখন দেশের সীমান্ত গলে প্রতিদিন নিঃশব্দে ঘটে চলেছে মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অবৈধ পথে ভারতে পাচার হওয়া নারীদের একটি বিশাল অংশের মূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে মহারাষ্ট্রের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই।

বিগত দুই দশকে (২০০০ থেকে ২০২৫ সাল) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবধিকার গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর আনুমানিক ১০ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি নারী ও কিশোরী অবৈধভাবে ভারতে পাচার হচ্ছে। ধারণা করা হয়, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শহরের যৌনপল্লী ও অবৈধ শ্রমের বাজারে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ পাচার হওয়া বাংলাদেশি নারী বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

টিকটক মডেল ও চাকরির ফাঁদ

পাচারকারী ও দালাল চক্রগুলো মূলত দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক অঞ্চলের সরল নারীদের টার্গেট করে। সীমান্ত অঞ্চলের যেসব জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, কিংবা ছোট নালা বা খাল রয়েছে—সেসব অংশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাচার করার জন্য তাদের ভারতে ভালো বেতনের চাকরি, বিউটি পার্লারের কাজ, বিয়ে, এমনকি টিকটক ভিডিওর জন্য ‘মডেল’ বানানোর লোভনীয় প্রলোভন দেখানো হয়।

যেহেতু এই নারীরা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হয়, তাই তাদের কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকে না। ভারতে পৌঁছানোর পর তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং মুম্বাই বা গোয়ার অন্ধকার জগতের পতিতালয়গুলোতে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি মেঘালয় রাজ্যে পাঁচ বাংলাদেশিকে আটকের পর মুম্বাইভিত্তিক এক বিশাল আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে ভারতীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

আইনি জটিলতা ও বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ

পাচারের শিকার এই নারীদের উদ্ধার করা ভারতীয় পুলিশের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি উদ্ধার হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘ ও জটিল। গত মাসে বোম্বে হাইকোর্ট পাচারের শিকার এক বাংলাদেশি নারীকে দ্রুত দেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাকে ২০২৪ সালে মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ভারতের বিভিন্ন সেফ হোম ও এনজিওর মাধ্যমে এদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও দুই দেশের লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে তা বছরের পর বছর আটকে থাকে।

ভিসার শর্ত লঙ্ঘন ও পর্যটন খাতে কড়াকড়ি

এদিকে, সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট বা পর্যটক ভিসা বর্তমানে প্রায় বন্ধ থাকায় অনেকে জরুরি ‘মেডিক্যাল ভিসা’ নিয়ে ভারত ভ্রমণ করছেন। কিন্তু এই মেডিক্যাল ভিসার কঠোর শর্ত না মেনে অনেকে আইনি ঝামেলায় পড়ছেন। ভিসার শর্ত অনুযায়ী, যে শহরের যে ডাক্তারকে দেখানোর কথা, তার বাইরে গিয়ে যদি কেউ কাশ্মীর বা দিল্লির মতো পর্যটন এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে যান, তবে ভারতীয় পুলিশ তাদের ‘ভিসার শর্ত লঙ্ঘন’ এর দায়ে গ্রেপ্তার করছে। নির্দিষ্ট মেয়াদের চেয়ে একদিন বেশি অবস্থান করলেও গুণতে হচ্ছে বড় অঙ্কের জরিমানা ও শাস্তি।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জট: ঝুলে আছে ৩,০০০ অনুরোধ

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও পাচারের শিকার নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিচয় বা নাগরিকত্ব নিশ্চিতকরণের (Nationality Verification) ধীরগতি। ভারতের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সম্প্রতি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রায় ৩,০০০ বাংলাদেশির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনুরোধ ঢাকার কাছে ঝুলে আছে, যার মধ্যে কিছু অনুরোধ পাঁচ বছরেরও বেশি পুরোনো।

এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমাদের কাছে থাকা ২,৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনুরোধ এখনো বাংলাদেশের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি যাতে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যেন বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী এই ব্যক্তিদের সসম্মানে ও নির্বিঘ্নে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়।”

তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নাগরিকত্ব বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে বাংলাদেশ কাউকেই গ্রহণ করবে না। কারণ পাচার হওয়া নারীদের অনেকেই দালালদের ভয়ে বা অজ্ঞতাবশত ভুল নাম-ঠিকানা দেয়, যার ফলে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তদন্ত করে তাদের প্রকৃত পরিবার খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ভারতে যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা সাজা থাকে, তবে সেই সাজার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনিভাবেই তাদের দেশে ফেরানোর কোনো সুযোগ থাকে না।

২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে ঢাকার রাজপথের সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে দূর সীমান্তের অসহায় নারী—কারো নিরাপত্তাই আজ সুসংহত নয়। ঢাকার রাস্তায় সাধারণ মানুষের মোবাইল বা ব্যাগ নিয়ে নিরাপদে হাঁটার অধিকার যেমন কেড়ে নিচ্ছে স্থানীয় অপরাধীরা, ঠিক তেমনি সীমান্তের ওপারে আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম ও জীবন কেড়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র। দেশের অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলার কঠোর কঠোর প্রয়োগ, পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা কূটনৈতিক ও প্রত্যাবাসন জট দ্রুত নিরসন করার মাধ্যমেই কেবল এই দ্বিমুখী সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।


তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category