• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ

Reporter Name / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

আজ ৯ই জুন, বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’। আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থাগুলোর নতুন সমন্বিত রূপ ‘গ্লোবাল অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন ইনকরপোরেটেড’ (Global ACI)-এর উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশে বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি, সার্টিফিকেশন বডি এবং টেস্টিং ল্যাবের নির্ভরযোগ্যতা তুলে ধরতে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘উদ্ভাবন, বিশ্বাস এবং টেকসই উন্নয়ন: অ্যাক্রেডিটেশনের শক্তি’ (Innovation, Trust and Sustainability: The Power of Accreditation)

বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড’ (বিএবি) দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শিল্প নগরীগুলোতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সেমিনার, র‍্যালি ও বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, রসায়নবিদ, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকেরা এই বৈশ্বিক আয়োজনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন।

গ্লোবাল এসিআই এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট

চলতি ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পূর্বের দুটি শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থা—‘আইএএফ’ (IAF) এবং ‘আইএলএসি’ (ILAC) একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে ‘গ্লোবাল এসিআই’ (Global ACI)। নতুন এই একক বৈশ্বিক ছাতার অধীনে এবারের অ্যাক্রেডিটেশন দিবসটি এক বিশেষ মাত্রা পেয়েছে।

বর্তমান যুগটি হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তির যুগ। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে যেকোনো পণ্য বা সেবার স্থায়িত্ব এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে বহুজাতিক বড় বড় কোম্পানি বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেগুলেটরেরা কোনো পণ্যের ওপর তখনই ভরসা করতে পারেন, যখন সেটির মান কোনো আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাক্রেডিটেড বা স্বীকৃত ল্যাবরেটরি দ্বারা পরীক্ষিত হয়। গ্লোবাল এসিআই-এর বর্তমান লক্ষ্য হলো ‘একবার অ্যাক্রেডিটেশন, বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা’ নিশ্চিত করা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারিগরি বাধাগুলো দূর করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব

একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণে অ্যাক্রেডিটেশনের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প (RMG), হিমায়িত মৎস্য, চামড়াজাত পণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রী যখন ইউরোপ বা আমেরিকার বাজারে পাঠানো হয়, তখন সে দেশের কাস্টমস ল্যাব টেস্টের সার্টিফিকেশন খোঁজে। বাংলাদেশের নিজস্ব ল্যাবরেটরিগুলো যদি ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড’ (বিএবি) থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (যেমন ISO/IEC 17025) অনুযায়ী স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন না পায়, তবে আমাদের পণ্যের টেস্ট রিপোর্ট বিদেশে গ্রহণযোগ্য হয় না। এর ফলে দেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে খালাস হতে বিলম্ব হয় এবং রপ্তানি আয় ব্যাহত হয়।

তাছাড়া, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ ও মানসম্মত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশনের কোনো বিকল্প নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের শিল্প খাতে যে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে, তাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতকে চাঙ্গা করতে এবং দেশীয় পণ্যের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে অ্যাক্রেডিটেশন এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

টেকসই ভবিষ্যৎ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

জ্বালানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক সংকটে ‘টেকসই উন্নয়ন’ বা সাসটেইনেবিলিটি নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন প্রোডাক্ট’ বলে যা কিছু বিক্রি হচ্ছে, তা আসলেই পরিবেশের ক্ষতি করছে কি না, তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেয় অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে যদি উন্নত বিশ্বের বাজারে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তবে সরকারি ও বেসরকারি খাতের টেস্টিং ল্যাবগুলোর সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে হবে। কারিগরি শিক্ষার বিস্তার, ল্যাবরেটরিগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার মাধ্যমেই কেবল বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও দেশের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অ্যাক্রেডিটেশন কেবল একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, এটি দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

তারেক রহমান বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার গুণগত মান যাচাই করে। অ্যাক্রেডিটেশন কেবল একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, এটি দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশনের মাধ্যমে বিএবি বাংলাদেশের পণ্য ও সেবাকে বিশ্ববাজারে আরো গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। এ পর্যন্ত বিএবি দেশে ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক বিশ্ব অ্যাক্রিডিটেশন দিবস ২০২৬ উদযাপনের উদ্যোগ সময়োপযোগী।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ভোক্তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু পণ্যের গুণগত মানই নয়, বরং উৎপাদনের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচেনায় নেন।

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস প্রতিবছর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং আস্থার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (আইএলএসি) প্রতিবছর ৯ জুন বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস পালন করে। বাণীতে তিনি বিশ্ব আ্যাক্রেডিটেশন দিবস দেশের মান অবকাঠামোকে আরো শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো ত্বরান্বিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং দিবসটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category