বলিউড থেকে হলিউড—দুই জগতেই সমান দাপটের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, সমাজকর্মী এবং লেখক হিসেবেও তিনি বিশ্বজুড়ে এক অনন্য পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। দুই দশকেরও বেশি সময়ের এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিনোদন জগতের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ এবার নতুন এক সম্মাননায় ভূষিত হতে যাচ্ছেন এই তারকা। আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘গোল্ড গালা ২০২৬’-এ প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে প্রদান করা হবে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্লোবাল ভ্যানগার্ড অনার’।
যে কারণে এই স্বীকৃতি
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত আড়াই দশক ধরে এশীয় ও পাশ্চাত্য বিনোদন জগতের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। হলিউড ও বলিউডে সমান দক্ষতায় কাজ করে তিনি যে অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা ও পথপ্রদর্শক।
বিশেষ করে তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্পল পেবল পিকচার্স’-এর অবদানের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন আয়োজকরা। এই ব্যানারের মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের জন্যই কাজ করেননি, বরং আঞ্চলিক ভাষার অসাধারণ সব গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছেন এবং নতুন প্রতিভাদের বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেই নির্মিত ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিল।
প্রিয়াঙ্কার অনুভূতি: “শিল্পের কোনো সীমানা নেই”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিউজিক সেন্টারে আয়োজিত জমকালো এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের নানা প্রান্তের স্বনামধন্য শিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন। এই সম্মাননা প্রাপ্তির খবরে উচ্ছ্বসিত প্রিয়াঙ্কা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “শিল্পের কোনো সীমানা নেই। ভাষা, ভূগোল বা সংস্কৃতি যা-ই হোক না কেন, একজন শিল্পীর স্বপ্ন সর্বজনীন। এই সম্মান আমাকে আরও বেশি দায়বদ্ধ করছে, যাতে আমি সেই সব কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরে তুলে ধরতে পারি, যাদের কথা এখনও শোনা হয়নি।”
তামিল সিনেমা থেকে হলিউড জয়
২০০২ সালে তামিল চলচ্চিত্র ‘থামিজান’-এর মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন মিস ওয়ার্ল্ড খেতাবজয়ী প্রিয়াঙ্কা। প্রথম সিনেমাতেই তিনি শুধু অভিনয় করেননি, একটি গানে কণ্ঠও দিয়েছিলেন। এরপর ২০০৩ সালে স্পাই থ্রিলার ‘দ্য হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই’-এর মাধ্যমে বলিউডে তাঁর অভিষেক হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘ফ্যাশন’, ‘বর্ফি!’, ‘মেরি কম’, ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এর মতো সিনেমায় বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন।
এরপর ‘কোয়ান্টিকো’ সিরিজের মাধ্যমে হলিউডে দাপুটে প্রবেশ ঘটে তাঁর। পরবর্তীতে ‘সিটাডেল’ ও ‘ম্যাট্রিক্স রিসারেকশন’-এর মতো বড় প্রকল্প তাঁকে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। বর্তমানে তিনি হলিউডের নতুন সিরিজে কাজ করছেন।
বিনোদন জগতের বাইরেও অনন্য অবদান
পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতির পাশাপাশি অফ-স্ক্রিন উদ্যোগেও সমানভাবে প্রশংসিত প্রিয়াঙ্কা। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিশু অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিনোদন ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।
একই মঞ্চে সম্মানিত হবেন জেট লি ও সিমু লিউ
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পাশাপাশি একই মঞ্চে সম্মাননা পাবেন আরও কয়েকজন বিশ্ববরেণ্য তারকা। মার্শাল আর্টভিত্তিক সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আজীবন অবদানের জন্য কিংবদন্তি অ্যাকশন তারকা জেট লি-কে প্রদান করা হবে ‘গোল্ড লিজেন্ড অনার্স’।
এছাড়া ‘মার্ভেল’-খ্যাত তারকা সিমু লিউ পাবেন ‘গোল্ড মোগল অনার্স’। পাশাপাশি জনপ্রিয় গায়িকা ইজেই (Yaeji) এবং অভিনেতা চার্লস মেল্টন-কেও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মানিত করা হবে।
সব মিলিয়ে, আগামী ৯ মে-র ‘গোল্ড গালা ২০২৬’ শুধু একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক সংযোগ, বৈচিত্র্য এবং সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল উদযাপন হতে যাচ্ছে, যেখানে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই স্বীকৃতি এক বিশাল অর্জন।