রাজধানীর কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাকিবুল হাসান সরকার শুভ গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২৮ এপ্রিল থানার ব্যারাক থেকে সাদাপোশাকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজের এত দিন পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
যেভাবে নিখোঁজ হলেন শুভ
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে রাত্রিকালীন ডিউটির কথা বলে ব্যারাক থেকে সাদাপোশাকে বের হন এসআই শুভ। সন্ধ্যা ৭টা থেকে তার ডিউটি থাকলেও তিনি আর কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকার পর থানা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নিখোঁজ নিশ্চিত হওয়ার পর তার সন্ধানে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।
পরিবারে শোকের মাতম
নিখোঁজ এসআই শুভর গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের বৈরাগবাড়ি এলাকায়। তার বাবার নাম মো. মাইজুদ্দিন সরকার। রোববার (৩ মে) রাতে নিখোঁজ এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে গিয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। বারান্দার এক কোণে বসে অঝোরে কাঁদছেন অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা মো. মাইজুদ্দিন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি বারবার বুক চাপড়ে আর্তনাদ করছেন।
বাবা মাইজুদ্দিন জানান, ২৮ এপ্রিল রাতে কলাবাগান থানা থেকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয় শুভ বাড়িতে গেছে কি না। ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকার খবর শুনে তারা হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ। এমন খবর পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। পুলিশ শুধু বলছে তারা কাজ করছে, আমাদের ধৈর্য ধরতে বলছে।”
বিয়ের মাত্র ৫ মাসের মাথায় নিখোঁজ
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন শুভ। চাকরির শুরুতে তিনি কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। মাত্র এক মাস আগে বদলি হয়ে তিনি কলাবাগান থানায় যোগ দেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুভর বাবা বলেন, “ছেলের বিয়ের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। মুহূর্তেই আমার সুখের সংসারে এমন ভয়াবহ অন্ধকার নেমে আসবে তা ভাবতেও পারিনি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমার ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় বুকে ফিরিয়ে দেন।”
ফিরবেন স্বামী, অপেক্ষায় সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী
সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী সামিয়া স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। তিনি জানান, গত ২৩ এপ্রিল ছুটি শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরে যান শুভ। সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল বিকেলে স্বামীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। এরপর থেকেই শুভর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
চোখের জলে স্বামীর সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করে সামিয়া বলেন, “আজ ছয় দিন পার হলো, কোনো ধরনের খোঁজখবর পাচ্ছি না। ভয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না।”
পুলিশ প্রশাসন তাকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানালেও, সময় যত গড়াচ্ছে পরিবারে হতাশা ও দুশ্চিন্তা ততই দীর্ঘ হচ্ছে।