• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

ইরানের একাধিক শহরে বোমাবর্ষণ মার্কিন বাহিনীর

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

আবারও ইরানে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে একাধিক শহরে বোমাবর্ষণ করেছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় রাতে, মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে বন্দর নগরী সিরিক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপ। এই হাল্মায় টার্গেট করা হয় বেসামরিক এলাকাগুলো।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে অন্তত ছয় দফা ও সিরিকে ৭ থেকে ৯ বার বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। বোমার আঘাতে সিরিকে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। বন্দর আব্বাসেও টেলিযোগাযোগ টাওয়ার, মাছ ধরার জেটিসহ অন্তত ১০ টি লক্ষবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিবৃতিতে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্টকমও। দু’পক্ষের মাঝে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তানুযায়ী, ইরানকে জ্বালানি রফতানির অনুমতি দেওয়া ছাড়পত্রটি বাতিল করার পরপরই এই অভিযান শুরু করে ওয়াশিংটন, যা চলমান যুদ্ধবিরতির এই চরম লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। তবে, মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি কেবল প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা নয়, বরং ইরানকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, চলমান হামলাগুলো ‘সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া’ নয়; বরং এর উদ্দেশ্য ইরানকে কঠোর মূল্য চোকাতে বাধ্য করা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি শাস্তিমূলক অভিযান। এতেই শেষ হচ্ছে না, আরও কিছু সময় এ অভিযান চলবে।’

এর আগে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে ওয়াশিংটন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ‘শক্তিশালী হামলা’ শুরু হয়েছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো বেসামরিক নাবিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য ইরানকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে বাধ্য করা।

সেন্টকমের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনকে লক্ষ্য করে হামলা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

/এআই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category