এক মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে ঈদের ছুটির পরপরই বেশ কিছু জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—এই তিনটিই হবে সরকারের জন্য প্রধান পরীক্ষা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প এবং সাধারণ জীবনযাত্রায় পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সেচ মৌসুমে ডিজেলের প্রয়োজনীয়তা সরকারকে চাপে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সীমাবদ্ধতার কারণে চড়া দামে জ্বালানি কেনা কঠিন হবে। ফলে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখাই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নও সরকারের জন্য একটি বড় কাজ। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা খাতের সম্প্রসারণ, সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয়গুলো বাজেটে প্রতিফলিত করার প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) মতে, একদিকে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, অন্যদিকে ব্যয় বৃদ্ধির চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করা নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য বেশ কঠিন হবে। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম।
রাজনৈতিক ময়দানেও ঈদের পর উত্তাপ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে চাপের মুখে পড়তে পারে সরকার। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ নিয়ে দলীয়করণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিরসন করা এবং জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের চেয়ে বর্তমানে অর্থনীতির চাকা সচল করাকেই তারা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।