বাগেরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের নিজ বাসভবনে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। খোদ দেশের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করতে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একাধিক চৌকস দল মাঠে নেমে জোর তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গেল গভীর রাতে শহরের আমলাপাড়া এলাকায় অবস্থিত আইজিপির তিনতলা বাসভবনে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে ঝড়ো বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্ধকারের সুযোগটিকেই কাজে লাগায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র। বাসভবনের চারপাশ অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকলেও, অত্যন্ত সুকৌশলে সেগুলোর নজর এড়িয়ে সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করে তারা। এরপর বাড়ির বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে মিটার পর্যন্ত সংযুক্ত প্রায় দুই কয়েল দামি তামার তার কেটে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া এই বৈদ্যুতিক তারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী কর্মকর্তার বাড়িতে চুরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, চোরদের শনাক্তের পাশাপাশি চুরি হওয়া তার উদ্ধারের জন্য শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। চোরাই মাল কেনাবেচার সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে বাগেরহাট শহরের স্থানীয় এক ভাঙারি দোকানিকে আটক করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি হওয়া তামার তার এ ধরনের কোনো চক্রের কাছেই বিক্রি করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনার বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। ঠিক কারা এই দুঃসাহসিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক স্পেশাল টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খুব দ্রুতই প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।