ভবিষ্যতে ঢাকার নগর প্রশাসনের দায়িত্ব পেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে কেবল সাময়িক কাজ করাই নয়, বরং সেবামূলক কার্যক্রমকে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটি আয়োজিত এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বর্তমানে দেশের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ এই নেতা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে সাদিক কায়েম সমাজ গঠনে স্ব-চালিত বা ‘প্রো-একটিভ’ মানুষের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রচলিত নির্বাচনী রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সমাজে প্রো-একটিভ লোক দরকার, যারা স্ব-চালিত। আমাদের দেশে নির্বাচনের আগে এমন কিছু লোক সামনে আসে, যাদের বিগত পাঁচ বছরে কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ড বা খোঁজখাক থাকে না। কিন্তু ভোট আসার ঠিক আগে আগেই তারা খুব কাজ শুরু করে দেয়।” তিনি এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চান।
নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের—এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, “ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করার দায়িত্ব কোনো ব্যক্তির একার বা একক কোনো সংগঠনের নয়। স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর পার হয়ে গেলেও আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক। এই খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। আগামীতে নগরের যারা দায়িত্বে আসবেন এবং যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন, তারা যেন জনগণের এই মৌলিক প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”
মানুষের জানমাল, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার অধিকারের জন্য কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম তাঁর ডাকসুর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকে নানা রকম নেতিবাচক কথা বলেছিলেন। বলা হয়েছিল আমরা নাকি কাজ করতে পারব না। অথচ মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে আমরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি; এমনকি যে কাজগুলোর মূল দায়িত্ব ছিল সিটি করপোরেশনের, আমরা সেগুলোও করে দেখিয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিসিনের ব্যবস্থা করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিক ও উন্নত করেছি। ঠিক একইভাবে, সামনে যদি নগরের (সিটি করপোরেশন) দায়িত্ব আমাদের কাছে আসে, তবে আমরা জনগণের প্রত্যাশা এবং অধিকার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ কাজ করবো। এই সেবাকে কেবল মৌখিক বা সাময়িক না রেখে একটি মজবুত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবো।”
রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার কয়েকশত অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। সাদিক কায়েমের এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল বক্তব্য উপস্থিত তরুণ ও স্থানীয় নাগরিকদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।