নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রীর ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এবার ভয়ংকর হুমকির মুখে পড়েছেন ওই শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা নারী চিকিৎসক। ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ এপ্রিল। ডা. সায়মা আক্তার তাঁর নিয়মিত চেম্বারে রোগী দেখার সময় ওই শিশুটি তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক নিশ্চিত হন যে, ১২ বছরের ওই শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এমন মর্মান্তিক রিপোর্টে চমকে গিয়ে তিনি যখন ভুক্তভোগী ও তার মায়ের কাছে বিস্তারিত জানতে চান, তখন বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সত্য। শিশুটি জানায়, মাদরাসার এক হুজুর তার সঙ্গে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
পরবর্তীতে এই অমানবিক ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ডা. সায়মার কাছে ওই শিশুর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। পেশাগত জায়গা থেকে তিনি গণমাধ্যমে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা তুলে ধরেন। কিন্তু সেই বক্তব্য বিভিন্ন টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। অজ্ঞাত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ডা. সায়মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং তাকে প্রকাশ্যে হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হতে থাকে।
নিজের করা জিডিতে ডা. সায়মা উল্লেখ করেন, লাগাতার এসব হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরাও জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে নিরাপত্তার অভাবে তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে নতুন করে বিস্তারিত কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে, হুমকি দেওয়া সেই ফেসবুক আইডিগুলো খোঁজার চেষ্টা করা হলে দেখা যায়, সেগুলো বর্তমানে ডিলিট বা ডিজেবল করে রাখা হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জিডি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই নারী চিকিৎসকের অভিযোগ পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তবে মূল ধর্ষণের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এখনই এর চেয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
অন্যদিকে, এই পাশবিক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে এরই মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক মোসসিনা ইসলাম আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আগামী ১০ মে বিকেলে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।