জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে আগামী বছর থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে এক নতুন সাংস্কৃতিক কূটনীতির রূপরেখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের এসব নতুন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবহন ভাড়া নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করেই বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে এসি বাসের ভাড়া এক ধাপে না বাড়িয়ে দুই থেকে তিন স্তরে বাড়ানো হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এছাড়া জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ইতোমধ্যেই এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি ‘ফুয়েল পাস’ বা জ্বালানি পাসের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এবারের স্বতঃস্ফূর্ত ও বর্ণাঢ্য পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, উৎসবটি ঘিরে অনেকের নানা শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং ভবিষ্যতে কেবল তিন-চার দিন নয়, বরং পুরো বৈশাখ মাসজুড়েই উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর পাশাপাশি, ভারতের কিছু অংশ, মিয়ানমার, ভুটান, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামেও একই সময়ে নববর্ষ পালিত হওয়ায় আগামী বছর থেকে এই উৎসবটিকে আঞ্চলিকভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পারসিক নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি বিনিময়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক কূটনীতি গড়ে তোলা হবে, যা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে একত্রিত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবোধকে আরও সুদৃঢ় করবে।
ব্রিফিংয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ রুখতে গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিতে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ জন শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এই ধাপে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। অন্যদিকে, সরকারের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এই কর্মসূচির অধীনে থাকা ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার খালের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৬১ কিলোমিটার খননের কাজ শেষ হয়েছে, যার সার্বিক অগ্রগতির হার প্রায় ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।