এক বন্ধু তার সদ্য প্রকাশিত বই নিয়ে খুবই নামকরা একজন লেখকের কাছে গিয়েছিল। বইটি তাঁর হাতে দিয়ে সে বিনয়ের সঙ্গে বলেছিল—‘আপনি আমার চেয়ে অনেক জ্ঞানী, বইটায় পারলে চোখ বুলাবেন। আপনার মন্তব্য আমার জন্য খুবই মূল্যবান।’
লেখক উত্তর দিয়েছিলেন,’আমি শুধু জ্ঞানে নয়, খ্যাতিতে তোমার চেয়ে বড়, বিত্তে বড়, ব্যস্ততায় বড়, তুমি চাইলেই তোমার বই আমি পড়ব, তা ভাবা ঠিক না।’
তাঁর দাবি শতভাগ ঠিক ছিল, কিন্তু একটি ব্যাপার ঠিক ছিল না। তা হলো, তাঁর জবাব দেওয়ার উদ্ধত ভঙ্গি।
সে মুহূর্তে আমার বন্ধুর তাঁর ব্যাপারে মোহ কেটে গিয়েছিল। সে আর কোনোদিন তাঁকে ‘বড়’ ভাবতে পারেনি। ভদ্রলোক বুঝতেই পারেননি তিনি কীভাবে আরেকজনের কাছে ছোটো হয়ে গেলেন!
It cut down his standard.
এভাবেই নিজের অজান্তে খুব ছোটো ছোটো কারণে আমরা আমাদের ‘স্ট্যান্ডার্ড’ কমিয়ে ফেলি।
যেমন—
১) একজন মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয় তার ভাষা ও ব্যবহার দিয়ে। সেটা বিলিয়ন ডলারও হতে পারে, ফুটো পয়সাও হতে পারে।
২) উচ্চতা তৈরি হয় শিক্ষা ও রুচি থেকে। সেজন্যই অনেক বিত্তশালীর কাছে যেতে আপনার অস্বস্তি লাগে।
৩) কিছু মানুষ আছে, যারা সারাক্ষণ নিজের প্রশংসা করে। বেশি ‘আমি, আমি’ করা আমাদের বড় করে না, বরং অন্যের হাসির খোরাক বানায়।
৪) প্রতিশ্রুতি একধরনের ঋণ, তা শোধ না করলে আমাদের মান আপনাতেই কমে যায়।
৫) গুজবে বিশ্বাস দিয়েও মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয়। যারা বিশ্বাস করে যে একটি তক্ষক কোটি টাকায় বিক্রি করা যায়, তারা দুনিয়ার সবচেয়ে উঁচু ডিগ্রিধারী হলেও কি আপনি তাদের দাম দেবেন? না বেকুব ভাববেন?
৬) যারা সারাক্ষণ অন্যের বদনাম করে, তাদের ব্যাপারে কেউ উচ্চ ধারণা পোষণ করে না।
৭) মিথ্যা শুধু গুণনাশিনী নয়, মাননাশিনীও। এটি মানুষের উচ্চতাকে দ্রুত করাত দিয়ে কেটে ফেলে।
৮) কার সঙ্গে আমার চলাফেরা, ওঠাবসা, সেটা আমার মান কমায় বা বাড়ায়। আপনার বন্ধু আপনার স্ট্যান্ডার্ড।
৯) বাঘের ছাল পরে যেমন মেষ বেশিদিন বাঘ সেজে থাকতে পারে না, ঠিক তেমনি ভানের মুখোশ পরে কেউ বেশিদিন ‘স্ট্যান্ডার্ড’ ধরে রাখতে পারে না।
১০) এখন স্ট্যান্ডার্ড বোঝার আরেকটি সূচক তৈরি হয়েছে। তা হলো, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ও কমেন্ট।
স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয় মজ্জায়, মুখোশে নয়।
‘Subhuman is nothing but your zero standard.’
যখন আমাদের স্ট্যান্ডার্ড শূন্য হয়ে যায়, তখন আমরা মানুষ থাকি না, ঊনমানুষ হয়ে যাই।
#আসুন মায়া ছড়াই