• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

রায় শোনার পর কাঁপছিলেন সঞ্জয় দত্ত

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের নাম জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা আজও বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি। সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত খালাস পেলেও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে অস্ত্র আইনে দোষী সাব্যস্ত হন। এবার সেই মামলার রায় ঘোষণার দিন আদালতের ভেতরের ঘটনাগুলো প্রকাশ করলেন মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকম।

সম্প্রতি লল্লানটপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিকম বলেন, রায় ঘোষণার মুহূর্তে সঞ্জয় দত্ত ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। আদালত যখন তাকে আবার হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেয়, তখন তিনি কার্যত কাঁপছিলেন।

নিকমের ভাষ্য, রায়ের আগে সঞ্জয় দত্ত জামিনে মুক্ত ছিলেন। তবে আদালত অস্ত্র আইনে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিলে তিনি বারবার বলতে থাকেন, “না স্যার, আমি কিছু ভুল করিনি। আমি ফিরে আসব।”

সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে নিকম বলেন, “সে কাঁপছিল। আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, ‘সঞ্জু, মিডিয়া দেখছে, সোজা হয়ে দাঁড়াও।’ এরপর পুলিশকে তাকে নিয়ে যেতে বলি। আমি যদি তখন তাকে সাহস না দিতাম, তাহলে মিডিয়া আমাকেই খলনায়ক বানিয়ে দিত।”

সাক্ষাৎকারে নিকম আরও জানান, তিনি সঞ্জয় দত্তকে প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অ্যাক্ট-এর সুবিধা দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, এটি এমন প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য, যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত যে পিস্তলটি রেখেছিলেন, সেটি দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ এক শুটারের কাছ থেকে এসেছিল। তাই অস্ত্রটির উৎস সম্পর্কে তার অজ্ঞ থাকার সুযোগ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, সঞ্জয়ের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, এটি তার প্রথম অপরাধ হওয়ায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত। কিন্তু প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অস্ত্র আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা চাওয়া হয়েছিল।

যদিও শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সঞ্জয় দত্তকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আগেই কাটানো সময় সমন্বয় করে তিনি ২০১৬ সালে পুনের ইয়েরাওয়াড়া কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কারামুক্তির পর সঞ্জয় দত্ত আবারও অভিনয়ে সক্রিয় হন। সম্প্রতি তাকে ‘ধুরন্ধর’, ‘কেডি: দ্য ডেভিল’, ‘আখরি সওয়াল’, ‘দ্য রাজা সাব’ ও ‘রাজা শিবাজি’-তে দেখা গেছে। সামনে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘বাপ’ এবং ‘খলনায়ক রিটার্নস’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category